সকাল সোয়া ৯টার দিকে মিরপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকরা সড়কে জড়ো হন। তারা রাস্তায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া করলে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করতে এসেছিলেন। পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
পোশাকশ্রমিকদের এই আন্দোলনের মূল দাবি, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং আবাসন ও যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বেতন বাড়ানোর দাবিতে তারা বিভিন্ন সময় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
এর আগে একই দাবিতে আন্দোলন চলাকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পরও শ্রমিকদের বিক্ষোভ থামেনি। পরবর্তী সময়ে সোমবার সকালে আবারও মিরপুর-১০ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকরা। পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। সংঘর্ষের পর মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়।
পরিস্থিতির কারণে এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল ও অবস্থানের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে পুলিশ। কাউকে রাস্তায় দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। সন্দেহভাজন মনে হলে পথচারীদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
মিরপুর-১০ রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও যোগাযোগকেন্দ্র। এখানকার সড়কে বিক্ষোভ বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে কর্মদিবসে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে কর্মজীবী মানুষ ও গণপরিবহনের যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান খাত। এ শিল্পে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবনমানের সঙ্গে মজুরি ও কর্মপরিবেশের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি এবং কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা তাই গুরুত্বপূর্ণ।
এ অবস্থায় শ্রমিকদের অভিযোগ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সংঘাত এড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।
তবে সর্বশেষ সংঘর্ষে কতজন শ্রমিক বা পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও নতুন কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।


