খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৩:২২ পিএম
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে থানা পুলিশের একটি দল তাকে হাতেনাতে আটক করে।
অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। তিনি মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক এবং নিজের বাড়ির পাশেই তার একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে। এলাকায় এই ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তির এমন কাণ্ডে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মহসিন হাওলাদার গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী নারীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর ঘরে স্বামী এবং ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে পারিবারিক কারণে স্বামীর সাথে ওই নারীর সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে। সেই সময় স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ও কবিরাজি চিকিৎসার সূত্র ধরে জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় তিনি প্রায়ই ওই নেতার কাছ থেকে তাবিজ-কবজ নিতে আসতেন।
সুযোগসন্ধানী এই পল্লী চিকিৎসক বৃহস্পতিবার সকালে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজান। তিনি তার নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের কৌশলে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে পাঠিয়ে দেন। এরপর বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে ওই নারীকে তার ভাইয়ের ছেলেকে বিশেষ তাবিজ দেওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ঘরে নিয়ে আসার পর মোস্তাফিজুর রহমান দরজা বন্ধ করে দেন এবং প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে আটকে রাখেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর ওপর চড়াও হন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এদিকে দীর্ঘ সময় ঘরের দরজা বন্ধ থাকা এবং ভেতরে ফিসফিসানি শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। এলাকাবাসী একজোট হয়ে ঘরের ভেতর উঁকি দিলে তাদেরকে একটি রুমে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এরপর স্থানীয় উৎসুক জনতা মোস্তাফিজুরকে অবরুদ্ধ করে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তাকে আগে কেউ বিস্তারিত জানায়নি। তবে আইন নিজের গতিতে চলবে এবং দলীয় কোনো নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের অনৈতিক কাজের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো বিষয় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশী তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
মন্তব্য