খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৩:২৮ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক পাচারকারীদের একটি বড় চালান ভেস্তে দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি জব্দ করেছে বাহিনীর সদস্যরা। উদ্ধার করা এই বিশাল চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক পালিয়ে যাওয়ায় এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে অভিযানের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশনের একটি বিশেষ চৌকস দল হ্নীলা ইউনিয়নের কোনাপাড়া সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান খালাস হওয়ার খবরে ওই সড়কে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। রাত বাড়ার সাথে সাথে একটি সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশা সেই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেটিকে থামার সংকেত দেয়। তবে কোস্ট গার্ডের সংকেত অমান্য করে চালক গাড়িটির গতি বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের ধাওয়ার মুখে পড়ে কোনাপাড়ার মূল সড়কের পাশে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে চালক দ্রুত অন্ধকারে ও পাশের লোকালয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে কোস্ট গার্ড সদস্যরা পরিত্যক্ত অটোরিকশাটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। গাড়িটিতে সাধারণ কোনো মালামাল না থাকায় সন্দেহ আরও বাড়ে। এরপর তল্লাশিকারী দল অটোরিকশার ভেতরের বিভিন্ন অংশ নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করতে শুরু করে। একপর্যায়ে সিটের নিচে ও পেছনের বডির ভেতরে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলো খুলে গণনা করে দেখা যায়, তাতে মোট ৭০ হাজার পিস ক্ষতিকর ইয়াবা বড়ি রয়েছে। যার বর্তমান অবৈধ বাজারমূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা।
উদ্ধার হওয়া এই মাদক ও জব্দকৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলছে। অটোরিকশার মালিক কে এবং কোন চালক ওই রাতে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, তা নিশ্চিত হতে স্থানীয় পরিবহন চালক ও বিআরটিএ-এর সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়েছে। জব্দ করা ইয়াবাগুলো টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে একটি অজ্ঞাতনামা মাদক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও সমানতালে এগিয়ে চলছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, নাফ নদী ও মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন টেকনাফ অঞ্চলটি মাদক পাচারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করতে এবং সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিনরাত নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। জনস্বার্থে মাদকের বিরুদ্ধে এই ধরনের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য