খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাতজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে একজন সিনিয়র জেল সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতজনের মধ্যে তিনজন মেট্রন এবং চারজন নারী কারারক্ষী রয়েছেন। তারা হলেন—মেট্রন লায়লা আঞ্জুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা আক্তার।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার কারণ, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্ধারণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত মেট্রনের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি মোছা. রিম্পা (২১) কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে নিয়মিত বন্দি গণনার সময় একজন বন্দি কম পাওয়া গেলে বিষয়টি সামনে আসে।
এরপর কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত কারাগারের বিভিন্ন অংশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয় যে রিম্পা কারাগারের সীমানাপ্রাচীর অতিক্রম করে পালিয়ে গেছেন। ঘটনার পরপরই কারাগারে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জানান, পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি কারাগার থেকে কীভাবে একজন বন্দি পালাতে সক্ষম হলেন, সেই বিষয়টিও তদন্তের অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের পার্ট-৩ শাখায় বন্দি ছিলেন।
ঘটনার পর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বন্দি তদারকির পদ্ধতি এবং দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে আরও প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।