খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের আলোচিত ব্যক্তিত্ব ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি এবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিজয় শুধু একটি রাজনৈতিক সাফল্য নয়; বরং শিক্ষা খাতে নতুন প্রত্যাশার সূচনাও বটে।
নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে সরাসরি গণসংযোগকে গুরুত্ব দেন। কচুয়ার গ্রাম-গঞ্জে তার সভা-সমাবেশে নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। ব্যক্তিগত সৌজন্য, সাবলীল ভাষা ও সহজ যোগাযোগক্ষমতা তাকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক করে তুলেছে।
ড. মিলনের শিক্ষা জীবন ছিল সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন তার নেতৃত্বগুণের প্রাথমিক প্রকাশ।
১৯৮২ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। পরে ব্রুকলিন কলেজ ও বরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে অধ্যাপনা করেন। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
ছাত্ররাজনীতি থেকেই তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ওই সময়েই তিনি ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা’ আন্দোলনের জন্য ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
নিচে তার শিক্ষাখাতে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সময়কাল | পদবি | উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ |
|---|---|---|
| ১৯৯৬ | সংসদ সদস্য | স্থানীয় শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন |
| ২০০১–২০০৬ | শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী | নকলবিরোধী অভিযান, ডিজিটালাইজেশন শুরু |
| ২০০১–২০০৬ | শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী | নারী শিক্ষায় উপবৃত্তি সম্প্রসারণ |
| ২০২৬–বর্তমান | শিক্ষামন্ত্রী | কারিকুলাম পর্যালোচনা, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোরতা |
২০০১-পরবর্তী সময়ে পাবলিক পরীক্ষায় নকল একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছিল। ড. মিলন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে নিজেই বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফিরে আসে। তার এই উদ্যোগ মেধাবীদের ন্যায্য মূল্যায়নের পথ সুগম করে।
বর্তমানে শিক্ষা খাত কারিকুলাম বিতর্ক, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে। ড. মিলন মনে করেন, কেবল জিপিএ-৫ অর্জনই লক্ষ্য হতে পারে না; শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কী শিখছে, সেটিই মুখ্য। তিনি সৃজনশীল পদ্ধতির অপব্যবহার রোধ এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানে গুরুত্বারোপ করেছেন।
শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ কমিয়ে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষা জোরদার করা, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবমুখী শিক্ষা কাঠামো গড়তে চান।
স্থানীয়দের মতে, কচুয়ার মাটি থেকে উঠে আসা এই নেতা আজ জাতীয় পর্যায়ে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। বিদেশে অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান তাকে বৈশ্বিক শিক্ষা ভাবনার সঙ্গে দেশীয় বাস্তবতার সমন্বয় ঘটাতে সহায়তা করছে।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা—অতীতের মতো এবারও ড. এহসানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও গুণগত পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।