খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ভিলওয়াড়ায় এক নৃশংস ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুই দিন আগে ভিলওয়াড়ের মাণ্ডলগড় এলাকায় ১৯ দিনের এক নবজাতককে জঙ্গলে ফেলে রাখার পর উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মুখে আঠা লাগানো ছিল এবং মুখের ভেতরে একটি পাথর রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, যাতে শিশুটি কাঁদতে না পারে এবং আশপাশের লোকজনের সন্দেহ না হয়, সে জন্যই এভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল।
ঘটনার পর পুলিশ শিশুটির মা এবং নানাকে আটক করেছে। স্থানীয়রা এই বর্বর আচরণে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, এবং শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই শিশুটি এক নারীর অবৈধ সম্পর্কের ফল। সমাজের চোখে লজ্জা এড়াতে সেই নারী ও তার বাবা ভুয়া পরিচয়ে বুন্দি শহরে একটি ঘর ভাড়া নেন। সেখানেই গোপনে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পর প্রথমে নবজাতককে বিক্রি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় কয়েক সপ্তাহ পর শিশুটিকে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়।
ভিলওয়াড়া জেলার পুলিশ সুপার ধর্মেন্দ্র সিং যাদব বলেন, ‘তথ্য পেয়ে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক থেকেই সন্তানের জন্ম। পরে তিনি শিশুটিকে ফেলে দেন।’ পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
শিশুটিকে প্রথমে দেখতে পান এক রাখাল। তিনি ছাগল চরাতে গিয়ে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনে খোঁজ নেন এবং তখনই শিশুটিকে খুঁজে পান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও গ্রামবাসীদের খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটি এখনো সংকটজনক অবস্থায় আছে, তবে ধীরে ধীরে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। ভিলওয়াড়া মেডিকেল কলেজের মা ও শিশু বিভাগের ইনচার্জ ডা. ইন্দ্র সিং এনডিটিভিকে বলেন, ‘শিশুটি শ্বাসকষ্টে ভুগছে বলে তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। গরম পাথরের সংস্পর্শে আসায় তার শরীরে পোড়ার ক্ষতও হয়েছে।’
স্থানীয়রা এই ধরনের ঘটনাকে সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন। পুলিশ শিশুটির মা ও নানাকে আটক করলেও পুরো ঘটনায় আর কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।