খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি আবাসিক মাদ্রাসায় এক শিক্ষকের মুঠোফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিশুশিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদ্রাসার সামনে বিক্ষোভ করেন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তবে এর আগেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষক মাদ্রাসা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন আতিকুল হাসান ও ইসমাইল হোসেন। তাঁরা শেরপুর উপজেলার ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থী একই প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ছাত্র। তাঁদের বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায়।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শিক্ষক আতিকুল হাসানের একটি মুঠোফোন হারিয়ে যায়। এরপর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ওই দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে সন্দেহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সন্দেহের জের ধরে গত রোববার রাতে দুই শিক্ষক মিলে শিক্ষার্থীদের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ওই নির্যাতনে শিশু দুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত জমাট বাঁধে। নির্যাতনের সময় তারা কান্নাকাটি করলেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে সহপাঠীদের কয়েকজন দাবি করেছে।
এক শিশুর স্বজন জানান, সোমবার দুপুরের পর তাঁরা নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারেন। খবর পেয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন, দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় আবাসিক কক্ষের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। পরে তাঁদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা ও প্রাথমিক শুশ্রূষা শেষে বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে। ভিডিওটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে অনেকেই মাদ্রাসার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভকারীরা শিশুদের ওপর এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলার নামে শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে মাদ্রাসায় পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকেরা পলাতক থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
শিশু অধিকার ও শিক্ষাবিষয়ক সচেতন মহলের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে কোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি আইন ও নৈতিকতার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।