ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার সেনা ইন্স্যুরেন্স এবং ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম কমেছে, যদিও উভয় প্রতিষ্ঠানই ২০২৫ সালে গত বছরের তুলনায় লাভ বৃদ্ধি করেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে, কারণ সাধারণত লাভ বৃদ্ধি হলে শেয়ারের মূল্য স্থিতিশীল বা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সেনা ইন্স্যুরেন্স, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা কল্যাণ সংস্থা (এসকেএস) পরিচালিত একটি সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান, ২০২৫ সালে ২০.৫১ শতাংশ বৃদ্ধির সাথে ২০৬.৮ মিলিয়ন টাকার নিট লাভ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।
তবে, ২০২৫ সালে পরিচালনামূলক নগদ প্রবাহ (Cash Flow from Operations) প্রতি শেয়ার মাত্র ৫ টাকা পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৭.২৩ টাকার তুলনায় কম। এর ফলে কোম্পানির লাভ সত্ত্বেও নগদ প্রবাহের হ্রাস বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এরপর শেয়ার মূল্য ৩.১৩ শতাংশ কমে প্রতি শেয়ার ৫৮.৬০ টাকায় নেমেছে।
অন্যদিকে, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২০২৫ সালে ৬.৭১ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে ১৪৬.৯৬ মিলিয়ন টাকার লাভ করেছে। কোম্পানি ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এবং এর ক্রেডিট রেটিং “AA2” স্থিতিশীল রয়েছে। তবে, এর পরিচালনামূলক নগদ প্রবাহ প্রতি শেয়ার ১.৭৪ টাকা, যা ২০২৪ সালের ২.২০ টাকার তুলনায় কম। শেয়ার মূল্যের সঙ্গে এই হ্রাসের প্রভাব পড়ে, এবং ডিএসইতে শেয়ার মূল্য ৪.৫৮ শতাংশ কমে ৮০ টাকায় নেমে আসে।
উভয় প্রতিষ্ঠানই নগদ প্রবাহের হ্রাসের জন্য কোনও ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোবৃত্তি এবং নগদ প্রবাহের হ্রাস শেয়ারের মূল্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নিচের টেবিলে উভয় প্রতিষ্ঠানের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আর্থিক তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| প্রতিষ্ঠান | নিট লাভ (২০২৪) | নিট লাভ (২০২৫) | লাভ বৃদ্ধি (%) | নগদ প্রবাহ প্রতি শেয়ার (২০২৪) | নগদ প্রবাহ প্রতি শেয়ার (২০২৫) | লভ্যাংশ (%) | শেয়ার মূল্য (ডিএসই) | শেয়ার পরিবর্তন (%) |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| সেনা ইন্স্যুরেন্স | 171.7 মিলিয়ন | 206.8 মিলিয়ন | 20.51% | 7.23 টাকা | 5 টাকা | 15% | 58.60 টাকা | -3.13% |
| ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স | 137.8 মিলিয়ন | 146.96 মিলিয়ন | 6.71% | 2.20 টাকা | 1.74 টাকা | 12% | 80.00 টাকা | -4.58% |
বিশ্লেষকরা বলছেন, নগদ প্রবাহের হ্রাস এবং বিনিয়োগকারীদের মনোবৃত্তি উভয়ই শেয়ার বাজারে পতনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে। যদিও উভয় প্রতিষ্ঠানই লাভ বৃদ্ধি করেছে, শেয়ারহোল্ডাররা নগদ প্রবাহের সংকোচনের দিকে লক্ষ্য রাখছেন।



