খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে মাঘ ১৪৩২ | ২১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালেই আত্মসমর্পণ করেছেন। ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে আদালতের অগ্রাহ্য অবস্থার বাইরে এনে বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপস্থিত হন।
এর আগে, গত বছর নিজ সাজা স্থগিত করার জন্য আবুল কালাম আজাদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। এ আবেদন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেছিল। 당시 ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, আর চারটি অভিযোগে কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় অন্য দণ্ডগুলো আলাদাভাবে কার্যকর হয়নি। অপর একটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।
প্রমাণিত অভিযোগ অনুযায়ী আবুল কালাম আজাদ মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন ভয়াবহ অপরাধে জড়িত ছিলেন। তার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| অভিযোগের ধরন | ঘটনার সংখ্যা | প্রমাণিত |
|---|---|---|
| হত্যা | ১৪ জন | হ্যাঁ |
| ধর্ষণ | ৩ নারী | হ্যাঁ |
| অপহরণ | ৯ জন | হ্যাঁ |
| আটক রাখা | ১০ জন | হ্যাঁ |
| অগ্নিসংযোগ | ৫টি বাড়ি | হ্যাঁ |
| লুটপাট | ১৫টি বাড়ির মালামাল | হ্যাঁ |
আবুল কালাম আজাদ প্রথমবারের মতো যুদ্ধাপরাধের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময় পলাতক ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি প্রথমে ভারত এবং পরে পাকিস্তান পালিয়ে যান। ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল মামলাটিকে অপেক্ষমান (CAV) রাখার আদেশ দেন, যা রায় ঘোষণার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার ঘটনা এই মামলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এবার আদালত তার উপস্থিতিতে রায় কার্যকর করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
এই আত্মসমর্পণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে যুদ্ধাপরাধ মামলায় পলাতক আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।