খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সফলতম উদ্যোগ ঢাকা মেট্রোরেল। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ যাত্রী এই মেট্রোরেলে যাতায়াত করে। ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থা এখন মেট্রোরেলের কারণে অনেক সহজ ও দ্রুত এবং আরামদায়ক হয়েছে। মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত যাত্রা আগে ৩–৪ ঘণ্টা লাগলেও এখন মাত্র ৩১ মিনিটে সম্পন্ন হচ্ছে।
মেট্রোরেল নগরবাসীর জন্য এক বিরল সুবিধা। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই সফলতম প্রকল্পটি ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফারুক আহমেদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, তার ব্যবস্থাপনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার অভাব মেট্রোরেলের চলমান প্রকল্পগুলোকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।
পাতাল ও উড়াল মেট্রোরেলের নির্মাণে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। এমডি ফারুক আহমেদের যোগদানের পর থেকে দেশের মেট্রোরেল উন্নয়নের পরিবর্তে তিনি বিদেশি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র মতে, তিনি ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন এবং ভারতের কোম্পানিকে মেট্রোরেলের কাজের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। জাপানের মতো বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে কম যোগাযোগ রাখার অভিযোগও ওঠেছে। ৫ আগস্টের পর তিনি হঠাৎ করেই ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানিতে এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নিজ পছন্দের পরামর্শক ও ঘনিষ্ঠদের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন, যা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই নেওয়া হয়। এর ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
কয়েকজন কর্মকর্তা অনলাইনে বলেন, ফারুক আহমেদ ঠিকাদারি ও ডেভেলপার পেশার মাধ্যমে বিদেশে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সিডনিতে মেট্রো প্রকল্পে প্ল্যানার হিসেবে দুই বছর, হংকংয়ে দুই বছর, সৌদি আরব ও ভারতে মোট চার বছর কর্মরত ছিলেন। যোগদানের পর তিনি সৌজন্যবিরোধী আচরণ ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে প্রতিষ্ঠান ও সহকর্মীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছেন।

২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা শহরে মেট্রোরেল মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কাজ যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। নতুন দুটি লাইনের নির্মাণে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, এমআরটি লাইন-১-এর ১২টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র চারটিরই সামান্য অগ্রগতি, বাকিগুলো গত ছয় মাস ধরে অগ্রগতি ছাড়াই রয়েছে। এমআরটি লাইন-৫-এর অগ্রগতি আরও ধীর।
এ পরিস্থিতিতে জাপান দূতাবাস সরকারের প্রতি তাড়াতাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রকল্পের ঋণ এবং জাপানি বিশেষজ্ঞদের সহায়তার কারণে দ্রুত কাজ শুরু করা জরুরি। এমআরটি-১ চালু হলে দৈনিক ৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। এমআরটি-৫ (উত্তর) লাইনের ২০ কিমি অংশ হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারিত। জাইকা এই প্রকল্পে যথাক্রমে ১০০ কোটি ও ৫৪ কোটি ডলার ঋণ নিশ্চিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস পূর্বে উল্লেখ করেছেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ, তারা বাংলাদেশের প্রধান দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী এবং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মোটকথা, মেট্রোরেল নগরবাসীর জন্য এক আশীর্বাদ হলেও, বর্তমান ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অস্বচ্ছতার কারণে প্রকল্পগুলো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দ্রুত ও দক্ষ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা না হলে ২০৩০ সালের লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হবে।