খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সম্পর্কে তথ্য দিতে আহ্বান জানিয়ে পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বোচ্চ দশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতাকে আরও তীব্র করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত দশজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করলে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত এই বাহিনী ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সরাসরি আনুগত্য প্রদর্শন করে এবং দেশটির শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার নিরাপত্তা রক্ষার অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সম্প্রতি ইরানের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন ঘটে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হন তার পুত্র মোজতবা খামেনি। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে এখনও জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন। যদিও তিনি সম্প্রতি এক সংক্ষিপ্ত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন প্রশাসন শুধু মোজতবা খামেনির তথ্যই নয়, ইরানের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অবস্থান ও কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান আলী লারিজানি, গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
একটি যাচাইকৃত চিত্রধারণে দেখা গেছে, আলী লারিজানি তেহরানে একটি সমাবেশে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের দাবি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে গোপন স্থানে অবস্থান করছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকায় আরও কয়েকজন সামরিক ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উল্লেখ রয়েছে, যদিও তাদের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, এই ব্যক্তিরা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সেই বাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত।
নিচে ঘোষণায় উল্লেখিত কয়েকজন প্রধান ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
| ব্যক্তি | দায়িত্ব | পুরস্কারের সর্বোচ্চ পরিমাণ |
|---|---|---|
| মোজতবা খামেনি | ইরানের সর্বোচ্চ নেতা | দশ মিলিয়ন ডলার |
| আলী লারিজানি | নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান | দশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত |
| ইসমাইল খাতিব | গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী | দশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত |
| এস্কান্দার মোমেনি | স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | দশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত |
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বহু আগেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই বাহিনী মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
তবে ইরান এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে আসছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে এবং আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের যৌক্তিকতা তৈরির জন্য এসব দাবি প্রচার করে। তাদের মতে, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এ ধরনের অভিযোগ মূলত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।