খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫
বাংলা চলচ্চিত্র সংগীত জগতে এক উজ্জ্বল নাম মো. খুরশীদ আলম। মিষ্টি কণ্ঠ, হৃদয় ছোঁয়া সুর এবং প্লে‑ব্যাকে অভাবনীয় অবদানের জন্য তিনি আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের প্লে‑ব্যাক জগতে রাজত্ব করেছেন।
মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১ আগস্ট, পুরান ঢাকায়। যদিও তাঁর পৈতৃক নিবাস জয়পুরহাটে, তাঁর বেড়ে ওঠা এবং গানের হাতেখড়ি ঢাকাতেই। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাঁকে ধীরে ধীরে শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলে।
খুরশীদ আলমের সংগীতযাত্রা শুরু হয় রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি আধুনিক ও চলচ্চিত্র গানেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ষাটের দশকে রেডিও ও টেলিভিশনে নিয়মিত গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৬৯ সালে ‘অগন্তুক’ চলচ্চিত্রে প্লে‑ব্যাক গায়কের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রজগতে পদার্পণ ঘটে।
তার কণ্ঠে গাওয়া বহু গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে আছে: চুমকি চলেছে একা পথে, বন্ধি পাখির মতো, মা গো মা, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছো কেন?, চুপিচুপি বলো, কেউ জেনে যাবে, জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো।
এইসব গান বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে কালজয়ী সংগীতে রূপান্তরিত হয়েছে।
মো.খুরশীদ আলমের শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বহু পুরস্কার। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, একুশে পদক (২০১৮) – বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। চ্যানেল আই লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০১৭), সিটি ব্যাংক গুণীজন সংবর্ধনা (২০১৯)
তার কণ্ঠের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল আবেগ, পরিমিত নাটকীয়তা এবং শব্দের উচ্চারণে স্বচ্ছতা। তিনি হাসির গান থেকে শুরু করে বেদনার গান, সবই সমান দক্ষতায় গাইতে পারতেন।
খুরশীদ আলম শুধুই একজন গায়ক নন, তিনি একটি সময়ের প্রতিনিধি। তার কণ্ঠের মধ্য দিয়ে এক যুগের আবেগ, ভালোবাসা, যন্ত্রণা ও স্বপ্নেরা কথা বলে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিল্পী তাকে অনুকরণ ও অনুপ্রেরণা হিসেবে মানেন।
মো. খুরশীদ আলম শুধু একজন কণ্ঠশিল্পী নন, বাংলা গানের এক যুগের প্রতীক। তার গান আজও বাংলা সংগীতপ্রেমীদের মন ভরিয়ে তোলে। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় তার কাজেই প্রতিফলিত হয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড