রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে সাহিদা বেগম (৬৮) নামের এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, লুটপাটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, দনিয়ার রসুলপুর এলাকার একটি সাততলা ভবনের সপ্তম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাহিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটেই তিনি বসবাস করতেন। খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি ফোন আসে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ওই ফ্ল্যাটে যায়। সেখানে গিয়ে সাহিদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রোববার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাহিদা বেগমের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে বা পরে ফ্ল্যাটে লুটপাট চালানো হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাহিদার একই ফ্ল্যাটে তাঁর পুত্রবধূ শারমিন আক্তার থাকতেন। সাহিদার একমাত্র ছেলে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। শারমিন পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে তিনি কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে দেখতে পান, ফ্ল্যাটের দরজায় বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। পরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি তাঁর শাশুড়িকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর দ্রুত তিনি পুলিশকে খবর দেন।
শারমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, বাসায় রাখা প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি সাহিদা বেগমের স্বর্ণের কানের দুলও পাওয়া যায়নি। এসব বিষয় থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
তবে কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা কীভাবে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিল এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আশপাশের এলাকার লোকজনের বক্তব্য, ভবনের বাসিন্দাদের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে লুটপাটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর ধরন ও আঘাতের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
নিহত সাহিদা বেগমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। তাঁর স্বামী শফিকুল ইসলাম মারা গেছেন। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।
মন্তব্য