খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ এএম
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯৬ জনের শরীরে হাম বা হামের মতো উপসর্গ দেখা গেছে। দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামসংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও একজন। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৬০৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এক দিনে হাম ও উপসর্গ মিলিয়ে আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৬৯৬ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত সার্বিক হিসাবে দেশে মোট ১৩ হাজার ৫০০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত বা অসুস্থ মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ জনে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা এই সংক্রমণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৪ হাজার ৩৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তাদের মধ্যে ৯০ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসৃত কণার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি—এসব হামের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়।
চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সতর্ক রাখা গেলে হাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অসুস্থ অবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকার হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য