খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
মার্কিন সরকারের একতরফা চাপে নতি স্বীকার করে কোনো চুক্তিতে সই করবে না ইরান। ওয়াশিংটন কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করে চুক্তি করতে চাইলেও তেহরান সেই শর্ত মানতে নারাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যেই দুই দেশের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য ও ভূরাজনৈতিক চরম উত্তেজনার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেন, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও তেহরান এখনো চুক্তি করতে প্রস্তুত নয়। তবে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলা হলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সড়ক, রেলপথ, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষ ৬০ দিনের এক সমঝোতায় সম্মত হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেই চুক্তি ভঙ্গ করে ইরানে হামলা বাড়ায় ওয়াশিংটন।
ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনার মধ্যে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে বেইজিং ও মস্কোর ভূমিকা। দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক মিত্র হিসেবে চীন ও রাশিয়া প্রতিটি সংকটে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বন্দ্বে চীন ও রাশিয়া ইরানকে কোনো সহায়তা করবে না। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ের এক বৈঠকে তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে কোনো অবস্থাতেই তারা ইরানকে নতুন করে অস্ত্র সরবরাহ করবে না। একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তবে তা তাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত খারাপ পরিণতি নিয়ে আসবে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কৌশল এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা সমঝোতা স্মারকটি ইতোমধ্যে পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন, যেখানে ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মার্কিন প্রশাসন কূটনীতিক দরকষাকষির পথ খোলা রাখার কথা বললেও সামরিক বাহিনীকে বড় ধরনের আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানান, তিনি আগের সব হামলার চেয়েও বৃহৎ ও মারাত্মক একটি সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতেও নতুন মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে। নতুন করে সংঘাত মারাত্মক রূপ নিলে তাতে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নাও নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন। অন্যদিকে, মার্কিন বিমান হামলা ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ছাড়িয়ে এখন রাজধানী তেহরানের কাছের অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।