খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর পল্লবীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া নিহত হয়েছেন। প্রকাশ্যে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর পালানোর সময় দ্রুত রিকশা না চালানোয় রিকশাচালককেও গুলি করে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি দোকানে ঢুকে হেলমেট পরা তিনজন কাছ থেকে গোলাম কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুলি করার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে যুবদল ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি দলীয় কোন্দল নাকি অন্য কোনো কারণে সংঘটিত হয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১২-এর ব্লক-সি, ৫ নম্বর রোডের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে বসেছিলেন গোলাম কিবরিয়া। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত সরাসরি দোকানে ঢুকে পড়ে এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুব কাছ থেকে মাথা, বুক ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর সাত রাউন্ড গুলি করে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যান কিবরিয়া। হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন একজন দুর্বৃত্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনাস্থল থেকে সাত রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে কিবরিয়াকে গুলি করে অটোরিকশায় পালাতে গিয়ে দ্রুত না চালানোয় আরিফ (২০) নামে রিকশাচালককে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আহত আরিফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরিফকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মো. পিয়ারুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলের কাছে তিনি আরিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কেউ তাকে হাসপাতালে না নেওয়ায় তিনি নিজেই প্রথমে স্থানীয় ইসলামী হাসপাতালে এবং পরে ঢামেকে নিয়ে যান।
পিয়ারুল আরও জানান, আহত আরিফ তাকে বলেন—দুজন হেলমেট পরা ব্যক্তি তার রিকশায় উঠে দ্রুত চালাতে বলেছিল। কিন্তু ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত চার্জ না থাকায় দ্রুত চালাতে না পারায় দুর্বৃত্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার কোমরে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। এটি দলীয় কোন্দল নাকি অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে—তদন্তেই তা পরিষ্কার হবে।
পল্লবী থানার ওসি মো. মফিজুর রহমান জানান, জনগণের সহায়তায় একজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে কিবরিয়া হত্যার প্রতিবাদে পল্লবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
খবরওয়ালা/টিএসএন