খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী বা এনসিপির মতো দলগুলো যখন নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত, তখন ভোটে অংশ নেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় পার্টি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও দলের ভেতরে প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তারা বলছে, ভোটে অংশ নেওয়ার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ মেললে জোরেসোরে মাঠে নামবে দলটি।
দলটির লক্ষ্য, এককভাবে নয়, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। সেক্ষেত্রে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী যেকোনো একটি দলের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী তারা।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, “জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে জাতীয় পার্টির আসন সংখ্যা বাড়বে, একই সঙ্গে যে দলের সঙ্গে জোট হবে তাদেরও আসন ও ভোট বাড়বে।” দলটি মনে করছে, ভোটে অংশ নেওয়া সংক্রান্ত ধোঁয়াশা হয়তো তফসিল ঘোষণার পর কাটবে এবং তখনই জোটের বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেবে।
নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করবে। জাতীয় পার্টি সেই সংলাপে আমন্ত্রণ পাবে কি-না তা এখনো নিশ্চিত নয়। দলের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের কারণে কাউন্সিলের মাধ্যমে আলাদা কমিটি গঠন করে তথ্য কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, জাতীয় পার্টি অভ্যন্তরীণ সংকট সমাধান করলে তখনই সংলাপ বা ভোট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরে ঘোষণার কথা। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন আসনে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটির নির্বাচন কার্যক্রম স্পষ্ট। গত এক বছরে দলটি একাধিক সভা-সমাবেশ করতে চাইলেও পুলিশের বাধায় তা হয়নি। জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ও সংঘর্ষও ঘটেছে। তার পরও দলটি ৩০০ আসনে প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনের জন্য প্রস্তুতি চলছে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় বেশি সময় লাগবে না। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে সব আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সম্ভাবনাও আছে।
জোটবদ্ধ নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। আমরা অনেকে আমাদের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী, আমরাও অনেকের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে গেলে জাতীয় পার্টির আসন বাড়বে, সঙ্গে যে দলের সঙ্গে জোট হবে তাদেরও আসন বাড়বে।”
শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানিয়েছেন, বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী জাতীয় পার্টি, তবে তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন