খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার ধৃষ্টতাপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি, ২০২৬) বরগুনার পাথরঘাটায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত নেতার দেওয়া ওই বক্তব্যকে ‘অশ্লীল ও অর্বাচীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাবি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি প্রতিষ্ঠানকে নয়, বরং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ঐতিহ্য ও মর্যাদালে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমেদের সমর্থনে আয়োজিত একটি জনসভায়। সেখানে জামায়াতের বরগুনা জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান বক্তব্য দেওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ডাকসুর ক্ষমতায় আসার আগে সেটি ‘মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা’ ছিল। তাঁর এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সারসংক্ষেপ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও পর্যবেক্ষণ |
| বক্তব্য প্রদানকারী | মো. শামীম আহসান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াত (বরগুনা)। |
| বক্তব্যের স্থান | পাথরঘাটা, বরগুনা (নির্বাচনী জনসভা)। |
| মূল আপত্তিকর মন্তব্য | ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা’ হিসেবে অভিহিত করা। |
| ঢাবি প্রশাসনের অবস্থান | বক্তব্যকে ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অর্বাচীন’ হিসেবে আখ্যা। |
| দাবি | অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা। |
| আহ্বান | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্নকারী বক্তব্য থেকে বিরত থাকা। |
রবিবার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার। ডাকসু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র। একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন কুরুচিপূর্ণ ভাষা কেবল অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং এটি তাঁর রাজনৈতিক দৈন্যতা ও অশিক্ষার পরিচয় বহন করে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, শামীম আহসানের এই অশালীন বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যকে আঘাত করেছে। ডাকসু থেকে অতীতে দেশের অসংখ্য বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী উঠে এসেছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এই ধরণের নোংরা বিশেষণ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই জামায়াত নেতাকে অবিলম্বে তাঁর এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরণের মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
এদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা জামায়াত নেতার এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে কলঙ্কিত করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দও একাত্মতা প্রকাশ করে ওই জামায়াত নেতার প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি বিদ্যাপীঠ নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের আবেগের স্থান। ডাকসুর ইতিহাস মানেই হলো বাংলাদেশের মুক্তির লড়াইয়ের ইতিহাস। সুতরাং, এমন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যে কেউ চাইলেই আপত্তিকর মন্তব্য করে পার পেতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় কোনো প্রকার আপস করা হবে না। জনমানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হবেন।