খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই মার্চ ২০২৬, ১:৩৬ পিএম
রাজধানী ঢাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি এবং বিপুল পরিমাণ হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অবৈধভাবে সংগ্রহ ও পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও বিভাগের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি ছাড়াও বিপুল পরিমাণ হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে মানবদেহের হাড় ও কঙ্কাল সংগ্রহ করত। এসব কঙ্কাল চুরি করে অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির মাধ্যমে তারা একটি চক্র গড়ে তুলেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধরনের কঙ্কাল সাধারণত চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা কিংবা অবৈধ সংগ্রাহকদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়। ফলে মানবদেহের কঙ্কাল নিয়ে একটি গোপন বাজার তৈরি হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া খুলিগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে—তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সম্ভাব্য উৎস হিসেবে কবরস্থান, হাসপাতালের মর্গ বা অন্য কোনো জায়গা থেকে কঙ্কাল চুরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া আলামতের প্রাথমিক তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো—
| উদ্ধারকৃত আলামত | পরিমাণ |
|---|---|
| মানুষের মাথার খুলি | ৪৭টি |
| বিভিন্ন মানব হাড় ও কঙ্কাল | বিপুল পরিমাণ |
| গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি | ৪ জন |
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | ঢাকা মহানগর পুলিশ (তেজগাঁও বিভাগ) |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রটি কতদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কঙ্কালগুলো কোথায় বিক্রি করা হতো এবং এর পেছনে কোনো বৃহৎ নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কঙ্কাল সংগ্রহের উৎস, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং পাচারপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহের কঙ্কাল অবৈধভাবে সংগ্রহ ও বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে এটি নৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত। তাই এ ধরনের চক্র শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কবরস্থান ও অন্যান্য সম্ভাব্য উৎসে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
মন্তব্য