খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। বিপুলসংখ্যক ভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রম থেকে এই বর্ণিল রথযাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ঢাকা কেন্দ্র এই আনন্দঘন রথযাত্রার আয়োজন করেছে। সকাল থেকেই স্বামীবাগ মন্দিরে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে, যা দুপুরের পর এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
রথযাত্রাটি স্বামীবাগ আশ্রম প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড় এবং পল্টন মোড় অতিক্রম করে। এরপর সেটি জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট মোড়, রমনা কালীমন্দির অভ্যর্থনা এলাকা, দোয়েল চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জগন্নাথ হল ও পলাশী মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে পৌঁছায়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ উলুধ্বনি ও হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীকে স্বাগত জানান।
নানা আচার ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইসকন ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসবের পরিকল্পনা করেছে। আজ সকাল আটটায় বিশ্বশান্তি, সংহতি ও মানবজাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই রথযাত্রা মহোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর বেলা দেড়টায় স্বামীবাগ ইসকন মন্দির অডিটরিয়ামে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা শেষেই বেলা আড়াইটার দিকে ঐতিহ্যবাহী রথের রশি টেনে আনুষ্ঠানিকভাবে রথযাত্রার উদ্বোধন করা হয়।
এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তার বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী (নিতাই স্বামী)।
আলোচনা সভায় অনন্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার। এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি গোকুল ভি কে, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র পাল, বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু এবং ইসকন বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রথযাত্রার পুরো রুটজুড়ে পুলিশের বিশেষ টহল দল, ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা, ফুট পেট্রল, বাইক মোবাইল টিম, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। শোভাযাত্রার কারণে যেন যানজট তীব্র না হয়, সে জন্য ট্রাফিক পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি উৎসবের শৃঙ্খলা রক্ষায় ইসকনের নিজস্ব পাঁচ শতাধিক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
৯ দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপনী বা নবম দিনে আগামী ২৪ জুলাই বেলা তিনটায় একই পথে উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথটি পুনরায় স্বামীবাগ আশ্রমে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই বছরের রথযাত্রা উৎসব।