খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব লক্ষণীয়। বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে এআই-সৃষ্ট ছবি ও ভিডিওর ব্যাপক প্রচলন দেখা যাচ্ছে।
এআই একদিকে যেমন দলগুলোকে নিজেদের প্রচারে সহায়তা করছে, তেমনি এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগও উঠছে। এই প্রবণতা ডিজিটাল অপতথ্যের প্রবাহ বাড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ডিজিটাল অপতথ্যের মোকাবিলায় নিজেদের কর্মীদের নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে।
অপতথ্য নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ডিসমিস ল্যাবের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, শুধুমাত্র প্রতিপক্ষের বিরোধিতা বা অপপ্রচারই নয়, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের প্রতি জনসমর্থন বাড়াতেও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এআই ভিডিওর আশ্রয় নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গণমাধ্যমকে বলেন, “বিএনপি একটি গণমানুষের দল। আমরা সাধারণ মানুষকে নিয়ে সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের দলের কর্মসূচি ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দ্বারা অনেক ভুল ও ভুয়া খবর আসছে, যা দেশ, দল ও রাজনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এআই-এর মাধ্যমে যেসব মিথ্যা খবর আসছে, সেগুলোর পাল্টা বার্তা তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের সক্রিয় কর্মীদের দ্বারা যেখানে প্রতিবাদ করা দরকার, সেখানে প্রতিবাদ করছি। তবে এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে সাধারণ মানুষের রাজনীতি করা যায় না।”
বিএনপির এই নেতা আরও জানান, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন, তারা এসব মিথ্যা বার্তা মোকাবিলায় সক্রিয় আছেন। কেউ যদি এআই ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা বার্তা তৈরি করতে চায়, সেখানে বাস্তবতার আলোকে পাল্টা বার্তা তুলে ধরতে বিএনপিকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ফাহিম মাশরুর গণমাধ্যমকে বলেন, প্রযুক্তির এই সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এআই দিয়ে তৈরি প্রচারণা আটকে রাখা সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে নেতিবাচক ও হিংসাত্মক কনটেন্ট প্রচার থেকে বিরত থাকা উচিত। তিনি মনে করেন, এগুলো আসলে নেতাকর্মীরা করে থাকেন, তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে সতর্ক ও সচেতন করা। কারণ তরুণরা এসব বিষয়ে সচেতন হলেও যাদের প্রযুক্তি জ্ঞান কম, তাদের অনেকেই এআই দ্বারা প্রচারিত তথ্যের কারণে বিভ্রান্ত হতে পারেন।
খবরওয়ালা/টিএস