খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২৮টি আসন অর্জন করেছে, তবে ভোটের ফলাফলে জামায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে গেছে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০০৮ সালের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এই বিভাগের কোনও আসন ছিল না জামায়াতের। ২০০১ সালের চারদলীয় জোটের নির্বাচনে জামায়াত মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল।
রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত আটটি জেলা হলো: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, জয়পুরহাট, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির কিছু আসনের হার সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে। অন্যদিকে, জামায়াতের এগিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে তারা নারী ভোটের গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন।
এই নির্বাচনে জামায়াত ১০টি আসনে নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচন করাতে সক্ষম হয়েছে। নীচের তালিকায় উল্লেখ করা হলো:
| জেলা | আসন | নির্বাচিত জামায়াত প্রার্থী |
|---|---|---|
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ১ | কেরামত আলী |
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ২ | মিজানুর রহমান |
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ৩ | নুরুল ইসলাম বুলবুল |
| সিরাজগঞ্জ | ৪ | রফিকুল ইসলাম খান |
| রাজশাহী | ৪ | আব্দুল বারী সরদার |
| জয়পুরহাট | ১ | ফজলুর রহমান সাঈদ |
| নওগাঁ | ২ | এনামুল হক |
| পাবনা | ১ | মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান |
| পাবনা | ৩ | মুহাম্মদ আলী আছগার |
| পাবনা | ৪ | মো. আবু তালেব মন্ডল |
এছাড়া রাজশাহী-১ আসনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান শেষবার সংসদে নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৮৬ সালে।
বগুড়া এবং নাটোর জেলায় সব আসন জিতেছে বিএনপি। বগুড়ার ৭টি ও নাটোরের ৪টি আসন বিএনপির দখলে। বগুড়া-৬ আসনে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী ছিলেন। উল্লেখযোগ্য যে, এই দুটি জেলায় ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের কোনো আসন ছিল না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি আসনও এবার জামায়াত পেয়েছে। পূর্বে এই আসনগুলো বিএনপির দখলে ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক শফিকুল আলম জানিয়েছেন, “নারী ভোটের কারণে জামায়াত অনেক এগিয়েছে। তারা আগস্টের পর থেকেই মাঠে নিবিড় গণসংযোগ চালিয়েছে। বিএনপি প্রার্থী মাত্র তিন মাস আগে প্রার্থী হয়েছেন, যা কার্যকর হয়নি।”
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সদর আসনের প্রার্থী হারুনুর রশীদকে দলের পরাজয়ের জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “২০১৮ সালের পর তিনি এলাকায় ছিলেন না। ৫ আগস্ট দুপুরে এসে দলের কমিটির সঙ্গে বসেননি এবং নিজস্ব উদ্যোগে কাজ চালিয়েছেন। এতে সাধারণ ভোটাররা দলের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন।”