খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে পৌষ ১৪৩২ | ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি বাজারে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় গভীর রাতে সংঘটিত অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের পরিকল্পিত এই হামলায় ব্যাংকের ভেতরে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র পুড়ে যায়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এই অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে। রাতের নিস্তব্ধ পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা প্রথমে ব্যাংক ভবনের চারপাশের সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা গ্রামীণ ব্যাংকের মূল ভবনের ফটকের বাইরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং ফটকের ভেতরে রাখা মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রামীণ ব্যাংকের শর্শদি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক অশোক কুমার দেবনাথ জানান, ঘটনার সময় ব্যাংকের ভেতরে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে দায়িত্বে থাকা নাইটগার্ড প্রথমে আগুনের গন্ধ এবং ধোঁয়া লক্ষ্য করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দ্রুত আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা শুরু হয়, যার ফলে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ার আগেই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আশপাশের এলাকা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে পুনরায় আগুন লাগার কোনো ঝুঁকি নেই। তবে ততক্ষণে ব্যাংকের ফটকের ভেতরে রাখা তিনটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং দুটি বেঞ্চসহ অন্যান্য আসবাবপত্র আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর ফেনী মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ব্যাংক ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব শাখাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।