খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ২:৩৪ পিএম
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কথা আছে বলে রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর লাইজু (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের ফাঁসিতলা বাজারসংলগ্ন মোগমটুলি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ফ্লাওয়ার মিলসের ভবনের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত লাইজু কামারদহ নয়াপাড়া (ফেলুকাড়া) গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
লাইজুর মা জানান, রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একই গ্রামের শাহিনুর তাঁকে ‘কথা আছে’ বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি লাইজু। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেও পরদিন সকালে জানতে পারেন, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত ফ্লাওয়ার মিলসের কাছে তাঁর মরদেহ পড়ে রয়েছে।
সোমবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পরিত্যক্ত ফ্লাওয়ার মিলসের ভবনের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। তবে লাইজুর কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃতি ও সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় লাইজুর পরিবারের পক্ষ থেকে রাতে তাঁকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুলিশ। তবে তাঁকে কে বা কারা ওই স্থানে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে কী ঘটেছিল এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ফাঁসিতলা বাজার ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পরিত্যক্ত স্থাপনার কাছে একজন যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
মন্তব্য