Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ক্যাম্প ন্যুতে শনিবার রাতের ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল একতরফা আধিপত্যের গল্প, যেখানে গোলের ব্যবধান যতটা না বলেছে, তার চেয়েও বেশি বলেছে বার্সেলোনার নিয়ন্ত্রণ, ছন্দ ও আত্মবিশ্বাস। ওসাসুনার বিপক্ষে ২–০ গোলের এই জয় কেবল তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং লা লিগা শিরোপার দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও বার্সেলোনা গোলের দেখা পায়নি। বল দখলে আধিপত্য, মাঝমাঠে পেদ্রি ও ডি ইয়ংয়ের দাপট এবং উইং দিয়ে ইয়ামাল–রাফিনিয়ার ধারাবাহিক আক্রমণ—সবই ছিল, শুধু গোলটা অনুপস্থিত। ২৩ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়ায় হতাশা আরও বাড়ে।
৪০ মিনিটে লামিন ইয়ামালের নিখুঁত ক্রস থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হন তোরেস। এরপর দূরপাল্লা থেকে এরিক গার্সিয়ার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। যোগ করা সময়ে ইয়ামালের নেওয়া শটও গোললাইনের ঠিক বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়, কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি বার্সেলোনার দখলে।
দ্বিতীয়ার্ধে হানসি ফ্লিকের দল আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। শুরুতেই মার্কাস রাশফোর্ডের নেওয়া ফ্রি-কিক ঠেকিয়ে দেন ওসাসুনার গোলরক্ষক সার্জিও হেরেরা। তবে চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।
অবশেষে ৭০ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় বার্সা। মাঝমাঠ থেকে পেদ্রির অসাধারণ দৌড় ও নিখুঁত থ্রু-পাসে রাফিনিয়া সুযোগ পেয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান। এই গোলটি ছিল পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্যের প্রতিফলন—ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক মুহূর্তে আঘাত।
গোল হজমের পর ওসাসুনা কিছুটা সামনে উঠে আসলে বার্সেলোনার আক্রমণের জায়গা আরও খুলে যায়। ৮৬ মিনিটে জুল কুন্দের ক্রস প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে রাফিনিয়ার সামনে এলে তিনি সহজেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন।
এই জয়ে লিগে টানা সাত ম্যাচ অপরাজিত থাকল বার্সেলোনা। ১৭ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল তারা। অন্যদিকে ১৬ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ওসাসুনা ১৫ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে ১৬ নম্বরে।