খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মেধার মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ‘কৃতী শিক্ষার্থী স্বীকৃতি পদক’ চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ভবন ‘বড়কুঠি’ খুব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই হস্তান্তর করা হবে বলে দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলো দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কিছু দাবিদাওয়ার বাস্তবায়নের রূপরেখা ফুটে ওঠে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে এই বিদ্যাপীঠের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের যেকোনো অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম-সংগ্রামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় পড়াশোনা শেষ করে বহু কৃতী সন্তান এখন বিশ্বব্যাপী নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখছেন এবং মানবসেবায় নিয়োজিত আছেন।” একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ অবদান রাখা দূরদর্শী জননেতা মরহুম মাদার বখশের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি যারা জমি দিয়ে, অর্থ দিয়ে এবং শ্রম দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের সবার প্রতিও রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিকায়নের আশ্বাস দিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, “উপাচার্য মহোদয় আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছেন। আমরা জানি, আর মাত্র দুই বছর পর এই বিদ্যাপীঠের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপিত হবে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ওই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ আহ্বান জানাব। আমরা আশা করছি, তিনি আমাদের মাঝে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন।”
আলোচনা সভায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে আবেগের জায়গা ‘বড়কুঠি’ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রী সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “উপাচার্য মহোদয় বড়কুঠি পুনরুদ্ধারের জন্য আমাকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলেছেন। জমি ও স্থাপনা-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়াগুলো শেষ করে খুব শিগগিরই বড়কুঠি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
এর আগে বড়কুঠি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভূমিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মস্থান হলো ঐতিহাসিক বড়কুঠি। সময়ের পরিক্রমায় এই স্থাপনাটি এখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে গেছে। আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে সনির্বন্ধ অনুরোধ করব, আইনি ও প্রশাসনিক যেকোনো উপায়ে হোক না কেন, এটি যেন আমাদের আবেগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।”
ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এই প্রাচীন ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছিল। শুরুর দিকে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্যের বাসভবন এবং প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আকার বাড়লে এটি টিচার্স ক্লাব ও কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। তবে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে একপর্যায়ে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে চলে যায়। দীর্ঘকাল ধরে এই প্রাচীন স্থাপনাটি নিজেদের অধীনে ফিরে পেতে আন্দোলন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এটি হস্তান্তর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো ইতিহাস নতুন রূপ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এই জমকালো আলোচনা সভায় দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফাইসুল ইসলাম ফারুকী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ। এছাড়াও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলন এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সুধী সমাজের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।