খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় সব আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১২ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক জুলফিকার উল্লাহ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগরের তৎকালীন আমির আতাউর রহমানসহ ১১৪ জন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ৯ জন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন, ১০৫ জন জীবিত আছেন। রায় ঘোষণার সময় ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা অনুপস্থিত ছিলেন।
ফারুক হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হল দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়। এতে ফারুক নিহত হন এবং তার লাশ ম্যানহোলে পাওয়া যায়।
ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম (অপু) নগরের মতিহার থানায় ৩৫ জন জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রায় আড়াই বছর পর ২০১২ সালের ২৮ জুলাই পুলিশ আদালতে ১ হাজার ২৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অভিযোগপত্রে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি শামসুল আলম (গোলাপ), সম্পাদক মোবারক হোসেন, নবাব আবদুল লতিফ, হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসমত আলী, শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি রাইজুল ইসলামসহ ১১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর আজ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুম রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলেন, ‘রায়ে খুশি বা অখুশি এখনই বলা যাবে না। আগে রায়টা দেখি, তারপর মন্তব্য করা হবে। তবে মামলাটি করার সময় প্রকৃত আসামিদের আড়াল করে রাজনৈতিক কারণে অন্যদের আসামি করা হয়েছিল।’
খবরওয়ালা/এন