খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি বঙ্গভবনে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন যে, বিদায়ের প্রাক্কালে ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতিকে না জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছিল। রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পর্কে তাকে কোনো ধরনের তথ্য দেওয়া হয়নি – না মৌখিকভাবে, না লিখিতভাবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “যে কোনো রাষ্ট্রীয় চুক্তি হলে তা অবশ্যই রাষ্ট্রপতিকে জানানো প্রয়োজন। এটি শুধু শিষ্টাচার নয়, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও।” তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারপ্রধানরা এমন বিষয় নিয়ে সবসময় রাষ্ট্রপতিকে সমন্বয় করে থাকতেন, কিন্তু ড. ইউনূস তা করেননি।
রাষ্ট্রপতি দাবি করেছেন যে, প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের বিধান অমান্য করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশ সফরের পর রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্তত ১৪–১৫ বার বিদেশ সফরে গেছেন। কোনোবারই আমাকে জানানো হয়নি।”
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, তার দুইবার বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছিল – একবার কসোভো এবং একবার কাতার। কাতারের আমিরের আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতিকে সেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। চিঠি যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল, তবে তা তার সঙ্গে কোনো আলোচনার ভিত্তিতে হয়নি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার ছবি বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের কনস্যুলেট ও হাইকমিশন থেকে অপসারণ করেছিল, যা তিনি রাষ্ট্রীয় অপমান হিসেবে দেখেন। এছাড়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে তার সঙ্গে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎক্রমে প্রেস উইং-এর তিন কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক অপসারণ করা হয় এবং ফটোগ্রাফারদেরও প্রত্যাহার করা হয়। ফলে বর্তমান প্রেস উইং একদম শূন্য।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দেশের জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার ছবি ও বাণী অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশে অন্তর্ভুক্ত করেনি। এমন কর্মকাণ্ড দেশের জনগণের কাছে তার এক্সপোজার ও পরিচয় কমিয়ে দিয়েছে।
| বিষয় | রাষ্ট্রপতির অভিমত | অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণ |
|---|---|---|
| রাষ্ট্রীয় চুক্তি | জানানো আবশ্যক | রাষ্ট্রপতিকে না জানানো |
| বিদেশ সফর | ফিরে এসে রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক | ১৪–১৫ বার বিদেশ সফর, কোনো রিপোর্ট নেই |
| প্রেস উইং | পূর্ণ কার্যক্ষম | পুরো উইং শূন্য করা, কর্মকর্তারা প্রত্যাহার |
| রাষ্ট্রীয় ছবি | বিশ্বব্যাপী প্রদর্শন | হঠাৎ অপসারণ |
| জাতীয় অনুষ্ঠান | অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক | অংশগ্রহণে বাধা |
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এই সব ঘটনা তার প্রতি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অপমানের চিহ্ন এবং এতে সাংবিধানিক দায়িত্বের ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূলত তাকে সম্পূর্ণভাবে আড়ালে রাখতে চেয়েছিল, যাতে জনগণ রাষ্ট্রপতিকে চিনতে না পারে।
এ ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে সাংবিধানিক সমন্বয় ও নীতিগত স্বচ্ছতার গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণ করছে। রাষ্ট্রপতি তার দৃঢ় অবস্থানে উল্লেখ করেছেন, তিনি সবসময় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছেন, তা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকারের মদতে তাকে একাধিকবার উচ্ছেদ ও অবমাননার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এই সাক্ষাৎকার দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র উদ্ভাসিত করেছে।