খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
নাইজেরিয়ার লাগোস শহরের ব্যস্ত রাস্তায় একসময় বোতলজাত পানি বিক্রি করতেন ভিক্টর ওসিমেন। রোদে পুড়ে, ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে কাটত তার শৈশব। আজ সেই ওসিমেনই নাইজেরিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক, যিনি গোল, লড়াই আর নেতৃত্ব দিয়ে একটি জাতিকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
ওসিমেনের শৈশব মোটেও সহজ ছিল না। খুব অল্প বয়সেই তিনি বাবা–মাকে হারান। পরিবারের দেখভাল আর নিজের পড়াশোনা—দুটোই একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে স্কুল শেষে নামতে হতো রাস্তায়। কোনো দিন পানি বিক্রি ভালো হলে রাতে খাবার জুটত, কোনো দিন আবার না খেয়েই ঘুমোতে হতো। তবু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাকে ছাড়েনি। খোলা মাঠ, ধুলোমাখা বল আর বন্ধুরা—এই ছিল তার প্রথম ফুটবল স্কুল।
ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে তার প্রতিভার খবর ছড়িয়ে পড়ে। বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পেয়ে বদলে যায় জীবনের গতিপথ। ২০১৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে তিনি গোলের বন্যা বইয়ে দেন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গোল্ডেন বুট জেতেন এবং বিশ্বমঞ্চে জানান দেন নিজের আগমনের কথা। এই সাফল্যই তাকে ইউরোপীয় ফুটবলের দরজায় নিয়ে যায়।
ইতালির নাপোলিতে যোগ দেওয়ার পর ওসিমেন যেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন। তার গতি, শারীরিক শক্তি, হেডিং ক্ষমতা ও নির্ভীক মানসিকতা নাপোলির আক্রমণভাগে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ক্লাবকে লিগ শিরোপা এনে দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন শহরের নায়ক। নাপোলির দেয়ালে আঁকা হয় তার ছবি, সমর্থকদের গলায় শোনা যায় তার নাম।
জাতীয় দলেও ওসিমেন আজ অপরিহার্য। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে তিনি শুধু গোলদাতা নন, দলের মানসিক শক্তিরও প্রতীক। সামনে থেকে প্রেসিং, সতীর্থদের উজ্জীবিত করা এবং কঠিন সময়ে দায়িত্ব নেওয়া—সব মিলিয়ে তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ নেতা। জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩৫ ছুঁয়েছে। কিংবদন্তি রশিদি ইয়েকিনির রেকর্ড এখন চোখের সামনে।
নিচের ছকে ওসিমেনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাইলফলক তুলে ধরা হলো:
| পর্যায় | সাল/সময় | অর্জন |
|---|---|---|
| শৈশব | কৈশোর | রাস্তায় পানি বিক্রি, ফুটবলের প্রতি আকর্ষণ |
| বয়সভিত্তিক সাফল্য | ২০১৫ | অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট |
| ইউরোপে উত্থান | পরবর্তী বছরগুলো | শীর্ষ লিগে নিজেকে প্রতিষ্ঠা |
| নাপোলিতে সাফল্য | সাম্প্রতিক | ৩৩ বছর পর লিগ শিরোপা |
| জাতীয় দল | বর্তমান | ৩৫ গোল, দলের প্রধান ভরসা |
মাঠে নামার আগে ওসিমেন আজও তার অতীত মনে করেন—রোদে পুড়ে যাওয়া দিনগুলো, ক্ষুধার স্মৃতি, হাতে ধরা পানির বোতল। হয়তো এই স্মৃতিগুলোই তাকে থামতে দেয় না, হার মানতে শেখায়নি। রাস্তায় পানি বিক্রি করা সেই ছেলেটিই আজ নাইজেরিয়ার ফুটবলের রাজা—সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে ওঠা এক অনুপ্রেরণার নাম।