খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর রায়ের বাজার এলাকায় ছুরিকাঘাতে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি তাঁরই সহযোগীদের হাতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসাদুল হক মোহাম্মদপুর থানার মেট্রো হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। তাঁর পিতার নাম জলিল সরদার। স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার ফজলুল করিম গণমাধ্যম প্রথম আলোকে জানান, বুধবার দিবাগত রাত বারোটার পর আসাদুল তাঁর কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে রায়ের বাজারের সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ওই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগীরাই তাঁকে ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় রাত আনুমানিক পৌনে একটার দিকে স্থানীয়রা আসাদুলকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থল থেকে আসাদুলের পকেট থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনের বিস্তারিত বিষয় উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলমান রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তির নাম | আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল |
| বয়স | ২৮ বছর |
| ঘটনার সময় | বুধবার মধ্যরাত, আনুমানিক বারোটার পর |
| ঘটনার স্থান | রায়ের বাজার, সাদেক খান ইটখোলা এলাকা |
| মৃত্যুর স্থান | শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| মৃত্যুর সময় | রাত আনুমানিক পৌনে একটার দিকে |
| অভিযোগ ও মামলা | মাদক ও ছিনতাইসহ পাঁচটি মামলা (মোহাম্মদপুর থানা) |
| পুলিশ বক্তব্য | সহযোগীদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু |
| বর্তমান অবস্থা | কোনো গ্রেপ্তার নেই, তদন্ত চলমান |
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার সময় আসাদুল তাঁরই পরিচিত কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বের কোনো বিরোধ বা ঘটনার জের ধরে ওই স্থানে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটির সৃষ্টি হয় এবং তা পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর রায়ের বাজার ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন।