নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি অপরাধী গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি তাজা গুলিভর্তি বিদেশি পিস্তলসহ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তারাবো বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চার ব্যক্তি হলেন—নাজমুল হোসেন (৩০), নিহাল মিয়া (২১), সাজ্জাদ হোসেন (২০) এবং শফিকুল ইসলাম (২৪)।
একই দিন রাত পৌনে ৯টায় রূপগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন নবনিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।
পুলিশ সুপার জানান, স্থানীয় তারাবো বাজার এলাকায় মাদকের বেচাকেনা ও ফুটপাতের চাঁদা তোলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ‘শ্রাবণ গ্রুপ’ ও ‘নবী গ্রুপ’ নামক দুটি স্থানীয় অপরাধী চক্রের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রায়শই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের অনুসারীরা এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নিত। প্রকাশ্যে চালানো হতো অস্ত্রের মহড়া। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের জীবনের চরম ঝুঁকি তৈরি হয় এবং পুরো এলাকা জুড়ে ভয়াবহ আতঙ্কের বিস্তার ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি শক্তিশালী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে নবী গ্রুপের কয়েকজন অস্ত্রধারী নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল ও তাজা কার্তুজ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ২০০৪ সালের ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশি নজরদারি ও চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।



