খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ৭:৩২ এএম
ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের দ্বৈরথ চিরকালই ভিন্ন মাত্রার উত্তেজনা ছড়ায়। তবে এবারের বিতর্কটা মাঠের ফুটবলারদের ছাড়িয়ে গিয়ে রূপ নিয়েছে রেফারি বনাম ফুটবল প্রশাসনের এক মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার রেফারি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। একদিকে আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফরাসি রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে ফ্রান্সের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে একচ্ছত্রভাবে পাঁচ আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগ—ফুটবল কূটনীতিতে এই ঘটনাকে সাধারণ চোখে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
আটলান্টার স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং মোহাম্মদ সালাহ’র নেতৃত্বাধীন মিশর। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত রূপকথার মতো ফুটবল খেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশরীয়রা। কিন্তু ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির দল ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দেখায় এক অবিশ্বাস্য ম্যাজিক। দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলেও ম্যাচটি শেষ হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে মিশরীয় শিবির। তাদের দাবি, মাঠের প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের এবং তার ফরাসি দল আর্জেন্টিনার জয়ের পথ সহজ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও রেফারিদের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ম্যাচটিতে সুনির্দিষ্টভাবে ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ ও পক্ষপাতের অভিযোগ এনে ফিফার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছে।
আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচের ম্যাচ অফিশিয়ালবৃন্দ:
প্রধান রেফারি: ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের (ফ্রান্স)
প্রথম সহকারী রেফারি: সাইরিল মুগনিয়ের (ফ্রান্স)
দ্বিতীয় সহকারী রেফারি: মেহদি রাহমুনি (ফ্রান্স)
চতুর্থ রেফারি: এস্পেন ইসকাস (নরওয়ে)
রিজার্ভ সহকারী রেফারি: ইসাক বাশেভকিন (নরওয়ে)
আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফরাসি রেফারিদের বিতর্কিত ভূমিকার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক বিতর্কের বোমা ফাটায় ফিফা। সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স এবারও টুর্নামেন্টে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে। সবকটি ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ‘অ্যাটলাস লায়ন’ খ্যাত শক্তিশালী মরক্কোর।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ফিফা যখন এই ম্যাচের ম্যাচ অফিশিয়ালদের তালিকা প্রকাশ করে, মুহূর্তের মধ্যেই তা ফুটবল ভক্তদের তোপের মুখে পড়ে। দেখা যায়, ফ্রান্সের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পাঁচজন অফিশিয়ালের সবাই আর্জেন্টিনার নাগরিক। আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফরাসি রেফারিদের উপস্থিতির পরপরই, ফ্রান্সের ম্যাচে কেন পাঁচজন আর্জেন্টাইন রেফারিকে রাখা হলো—তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানামুখী ট্রল ও নেতিবাচক মন্তব্য শুরু হয়েছে। অনেকেই দুই ম্যাচের অফিশিয়ালদের তালিকা পাশাপাশি পোস্ট করে ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন তুলছেন।
ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচের ম্যাচ অফিশিয়ালবৃন্দ:
প্রধান রেফারি: ফাকুন্দো টেল্লো (আর্জেন্টিনা)
প্রথম সহকারী রেফারি: হুয়ান পাবলো বেলাত্তি (আর্জেন্টিনা)
দ্বিতীয় সহকারী রেফারি: গ্যাব্রিয়েল শাদে (আর্জেন্টিনা)
চতুর্থ অফিশিয়াল: দারিও হেরেরা (আর্জেন্টিনা)
রিজার্ভ সহকারী রেফারি: ক্রিস্টিয়ান নাভারো (আর্জেন্টিনা)
আগামী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো। একদিকে মিশরের করা ফিক্সিংয়ের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, অন্যদিকে ফরাসিদের ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারিদের মনস্তাত্ত্বিক চাপ—সব মিলিয়ে বোস্টন স্টেডিয়ামের এই ম্যাচটি কেবল মাঠের ফুটবলের জন্যই নয়, বরং ফিফার রেফারিং প্যানেলের নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্যও এক অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
মন্তব্য