ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ব্যক্তি বিকাশ কর্মকার (৪৭), যিনি উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাতৈর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণকার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথের সাতৈর রেলস্টেশনে। সে সময় রাজশাহী থেকে গোপালগঞ্জগামী ‘টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি স্টেশন অতিক্রম করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি আসার আগে বিকাশ কর্মকার রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রেনের শব্দ শোনার পর আশপাশের মানুষজন নিরাপদ দূরত্বে সরে গেলেও তিনি আচমকাই দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রী লক্ষ্মী রানী কর্মকার মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই তিনি একাকী জীবনযাপন করছিলেন। তাদের একমাত্র সন্তান বর্তমানে নানাবাড়িতে অবস্থান করছে। পারিবারিক এই বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক চাপ তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও জানা গেছে, একসময় তিনি এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঋণের বোঝা বেড়ে গেলে তিনি ব্যবসা ছেড়ে ঢাকায় চাকরির সন্ধানে যান। সম্প্রতি তিনি পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ফিরেছিলেন। কিন্তু স্বজনদের আপত্তির মুখে পড়ে তিনি মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার পর পুলিশ তার মরদেহের কাছ থেকে একটি ভোটার পরিচয়পত্র ও পরিবারের সদস্যদের ছবি উদ্ধার করে, যা তার পরিচয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। খবর পেয়ে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
নিচে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| নিহতের নাম |
বিকাশ কর্মকার (৪৭) |
| পেশা |
স্বর্ণ ব্যবসায়ী |
| ঠিকানা |
বড়নগর গ্রাম, সাতৈর ইউনিয়ন, বোয়ালমারী |
| ঘটনার স্থান |
সাতৈর রেলস্টেশন |
| ঘটনার সময় |
৫ এপ্রিল, রাত সাড়ে ৯টা |
| ট্রেনের নাম |
টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস |
| পারিবারিক অবস্থা |
স্ত্রী মৃত, এক সন্তান নানাবাড়িতে |
| সম্ভাব্য কারণ |
ঋণের চাপ ও মানসিক অবসাদ |
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকাবাসীর জন্য এক গভীর বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে রইল। স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও পারিবারিক সহমর্মিতা অত্যন্ত জরুরি।