খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। নামটি উচ্চারণ করলেই ফুটবল দুনিয়ার ঝলমলে আলো, রেকর্ডের খাতায় একের পর এক ইতিহাস, আর খেলাধুলার জগতে অসীম পরিশ্রমের প্রতীক ভেসে ওঠে। ৪০ বছর বয়সেও তিনি ফিটনেস, দৃঢ়তা ও পেশাদারত্বে তরুণদের জন্য এক অনন্য উদাহরণ। কিন্তু বয়স যত বাড়ছে, ততই কাছে আসছে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি—ফুটবল ক্যারিয়ার।
গত মাসে সিএনএন–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করে বলেন—২০২৬ সালের বিশ্বকাপই তাঁর শেষ। এক–দুই বছরের মধ্যেই মাঠ ছাড়বেন—এমন ভাবনাও জানিয়েছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। যা শুনে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে সমর্থকদের মধ্যে।
রোনালদোর জীবনে ফুটবল–বহির্ভূত ক্ষেত্র কম নয়। তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিস্তৃত। কিন্তু রোনালদো এমন মানুষ নন, যিনি কেবল অফিস কক্ষে বসে জীবন কাটাতে পারবেন। তাঁর ভেতরের প্রতিযোগিতা–প্রাণ যেন সবসময় নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজে বেড়ায়।
এমন সময়ে ২৭ নভেম্বর আসে বিস্ময়কর ঘোষণা—রোনালদো যোগ দিচ্ছেন স্প্যানিশ এমএমএ সংগঠন ওয়াও এফসিতে অংশীদার হিসেবে।
এক্স–এ প্রকাশিত তাঁর বার্তাটি ছিল আত্মবিশ্বাসী।
“শৃঙ্খলা, সম্মান, দৃঢ়তা—এই মূল্যবোধগুলোই আমাকে ওয়াও এফসির দিকে টেনেছে,”—লিখলেন তিনি।
সংগঠনটির সঙ্গে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়—“ক্রিস্টিয়ানোর যুক্ত হওয়া শুধুই একটি অংশীদারিত্ব নয়; এটি নতুন যুগের সূচনা।”
ওয়াও এফসি ইতিমধ্যেই এমএমএ দুনিয়ায় আলোড়ন তুলছে। ১৭০ দেশে সম্প্রচার, ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধির হার, এবং প্রতিটি ইভেন্টে ৫ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি—এমন পরিসংখ্যানই জানিয়ে দেয় কেন প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে। ইউএফসির তারকা ইলিয়া তপুরিয়ার সঙ্গে এখন রোনালদোও যোগ দিচ্ছেন তাদের বোর্ডে।
কিন্তু আসল বিস্ময় তৈরি করেন আরেকজন—মার্কিন বক্সার রায়ান গার্সিয়া। তিনি দাবি করেন—রোনালদো শুধু অংশীদার নন; চাইলে এমএমএ লড়াইয়েও নামতে পারেন! তাঁর বিশ্লেষণ, রোনালদোর পায়ের শক্তি ও শারীরিক ক্ষমতা তাঁকে তায়কোয়ান্দো বা কিকবক্সিংয়ের মতো বিভাগে সম্ভাবনাময় অ্যাথলেটে পরিণত করতে পারে।
রোনালদো যে ভিডিও প্রকাশ করেছেন, তাতে শুধু বিনিয়োগ নয় বরং ‘ফাইটিংয়ের নতুন যুগ’ শুরু করার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মন কি সত্যিই অক্টাগনের দিকে ঝুঁকছে? নাকি এটি কেবল বাণিজ্যিক কৌশল? এ নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।
তবে যেটা স্পষ্ট—রোনালদো কখনোই সাধারণ কোনো পথ অনুসরণ করেন না। ফুটবলে যেমন প্রতিটি ম্যাচে আগুন ছড়িয়েছেন, তেমনই এমএমএ দুনিয়ায়ও হয়তো তিনি আনতে পারেন নতুন মাত্রা—অন্তত তাঁর যুক্ত হওয়া এতেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক যুগের সমাপ্তিতে আরেক যুগের শুরু—রোনালদোর নতুন লড়াই এখন সময়ের অপেক্ষা।