খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে মাঘ ১৪৩২ | ২২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত কর্মকর্তা র্যাবের বিশেষ অভিযানে নিয়োজিত ছিলেন এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নিহত হন।
মামলা করেন র্যাবের একজন উপসহকারী পরিচালক। অভিযোগে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জঙ্গল সলিমপুর আলিনগরের ইয়াসিন বাহিনীর নেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং তার সহযোগী নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন:
মোহাম্মদ ইউনুস
জাহিদ হাসান
আরিফ হোসেন
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “মামলার পর মঙ্গলবার রাতের অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।”
ওসি মহিনুল ইসলাম আরও জানান, মামলার মূল আসামি ইয়াসিনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চারটি মামলা এবং নুরুল হক ভান্ডারীর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে।
নিহতের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সোমবার বিকেল চারটার দিকে। র্যাবের অভিযান চলাকালীন দুর্বৃত্তরা চারজনকে—including তিন র্যাব সদস্য ও একজন স্থানীয় ব্যক্তি—জিম্মি করে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে আলীনগর এলাকায় একটি নতুন নির্মিত দোকানে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা র্যাবের চারটি পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। পরে ফৌজদারহাট পুলিশের নেতৃত্বে আহত চারজনকে উদ্ধার করা হয় এবং দোকান সংলগ্ন এলাকা থেকে র্যাবের চারটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত সংক্ষেপ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃত র্যাব কর্মকর্তা | মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (ডিএডি, নায়েব সুবেদার) |
| ঘটনা স্থান | জঙ্গল সলিমপুর, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম |
| ঘটনার সময় | সোমবার বিকেল, ১৬:০০ ঘণ্টা |
| প্রধান আসামি | মোহাম্মদ ইয়াসিন (ইয়াসিন বাহিনী প্রধান) |
| সহযোগী | নুরুল হক ভান্ডারী |
| মোট আসামি | ২২৯ (নামজাদা ২৯ + অজ্ঞাতনামা ২০০) |
| গ্রেপ্তারকৃত | ৩ জন: মোহাম্মদ ইউনুস, জাহিদ হাসান, আরিফ হোসেন |
| উদ্ধারকৃত | ৪ জন (৩ র্যাব সদস্য, ১ স্থানীয় ব্যক্তি) |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র | র্যাবের ৪টি পিস্তল |
পুলিশের অভিযানের মাধ্যমে মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসন এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি চালাচ্ছে।