খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার রাতে। লক্ষ্মীপুর শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম এবং জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এই বাকবিতণ্ডা এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় শহরের চকবাজার জামে মসজিদের সামনে এক প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয়। অন্যদিকে, ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারে একই সময় ও একই স্থানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দিলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের দাঙ্গা বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পুরো পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ছাত্ররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বেধে যায়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চকবাজার এলাকা।
নিচে সংঘর্ষের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির একটি তালিকা প্রদান করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| আহতের সংখ্যা | ওসিসহ মোট ৮ জন (পুলিশ ও সাধারণ ছাত্র) |
| গুরুতর আহত | ওয়াহিদ পারভেজ (ওসি, সদর মডেল থানা) |
| আটককৃতদের নাম | সাইফুল ইসলাম মুরাদ (মুখ্য সংগঠক) ও আরও কয়েকজন |
| স্থান | চকবাজার জামে মসজিদের সম্মুখভাগ |
| সময় | বিকেল ৫:৩০ মিনিট (রবিবার) |
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চকবাজার ও এর আশপাশের ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম এ প্রসঙ্গে বলেন, “এটি ছাত্রদলের কোনো দলীয় কর্মসূচি ছিল না, বরং জুলাই ফাইটার্সের প্রোগ্রাম ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আমি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।” অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী গণমাধ্যমকে জানান, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। ছাত্রদের ইটের আঘাতে আমাদের ওসিসহ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।”
বর্তমানে জেলা শহরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ জনগণকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।