খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
ভোলার লালমোহনে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুকুরের পানিতে ডুবে মো. আলিফ নামের চার বছর বয়সী এক শিশুর অকাল মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আলিফ ওই এলাকার বাসিন্দা মো. ওবায়েদুর রহমান কাজল মুন্সির সন্তান। এই ঘটনায় পুরো পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরের দিকে শিশু আলিফ বাড়ির অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে উঠানে খেলাধুলা করছিল। খেলার এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সে বসতঘর সংলগ্ন পুকুরের ধারে চলে যায় এবং অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে স্বজনরা বিচলিত হয়ে পড়েন এবং চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে তাকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা।
তাকে দ্রুত উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আলিফের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনরা।
ঘটনা সম্পর্কে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। যেহেতু এটি একটি দুর্ঘটনা এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ ছিল না, তাই আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহত শিশুর নাম | মো. আলিফ |
| বয়স | ৪ বছর |
| পিতার নাম | মো. ওবায়েদুর রহমান কাজল মুন্সি |
| ঘটনার স্থান | চরছকিনা এলাকা, কালমা ইউনিয়ন, লালমোহন |
| ঘটনার সময় | রবিবার দুপুর (৫ এপ্রিল) |
| মৃত্যুর কারণ | পুকুরের পানিতে ডুবে যাওয়া |
| আইনি পদক্ষেপ | অপমৃত্যু মামলা ও লাশ হস্তান্তর |
বাংলাদেশে বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বর্ষা মৌসুম বা গরমের সময় শিশুদের এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শিশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাড়ির আশেপাশে পুকুর বা ডোবা থাকলে শিশুদের প্রতি অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন।
প্রতিরোধে করণীয়:
পুকুর বা জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী বা অন্তত বাঁশের বেড়া দেওয়া।
শিশুরা যখন বাইরে খেলা করে, তখন সবসময় একজন প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধানে রাখা।
বাড়ির পানির বালতি বা টাব সবসময় খালি রাখা অথবা ঢেকে রাখা।
শৈশব থেকেই শিশুদের সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা করা।
আলিফের মতো অকালে কোনো প্রাণের ঝরে পড়া রোধ করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারের সতর্কতা এখন সময়ের দাবি। লালমোহনের এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল যে, সামান্য অসতর্কতা কীভাবে একটি সাজানো পরিবারে চিরস্থায়ী শোকের ছায়া নিয়ে আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উচিত এই বিষয়ে গ্রামীণ মায়েদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।