লিভারপুলের ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাকপোকে দলে ভেড়াতে বড় অঙ্কের প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে নিয়ে দুই ক্লাবের মধ্যে বড় ধরনের ট্রান্সফার লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাকপোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্ত নিয়ে ইতিমধ্যে সমঝোতায় পৌঁছেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এখন মূল লক্ষ্য লিভারপুলকে রাজি করানো। সে জন্য অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির কাছে প্রায় ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা, যা ৯৯ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি।
গাকপোর প্রতি সিটির আগ্রহের অন্যতম কারণ তাঁর বহুমুখী ভূমিকা পালনের সক্ষমতা। তিনি দুই উইংয়ে খেলতে পারেন, আবার প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড হিসেবেও দায়িত্ব সামলাতে সক্ষম। আক্রমণভাগের একাধিক জায়গায় কার্যকর হওয়ার এই গুণ তাঁকে ম্যানচেস্টার সিটির পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কোচিং স্টাফও তাই তাঁকে দলে পেতে আগ্রহী।
প্রস্তাবিত ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডের অঙ্কে যদি চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, তাহলে ডাচ ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্রান্সফারের নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। এর আগে আয়াক্স থেকে বার্সেলোনায় ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের যোগদানের সময় ৭৫ মিলিয়ন ইউরোর মূল ফি এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন ইউরোর শর্তসহ যে চুক্তি হয়েছিল, সেটিই এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য রেকর্ড হিসেবে রয়েছে।
তবে গাকপোকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে লিভারপুলও যে সহজে সম্মতি দেবে, তা মনে করছে না সংশ্লিষ্ট মহল। ক্লাবটির অবস্থান হলো, গুরুত্বপূর্ণ কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে ছাড়ার আগে তাঁর যথাযথ বিকল্প নিশ্চিত করা। ফলে গাকপোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে লিভারপুলের নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহের পরিকল্পনার ওপর।
এই পরিস্থিতিতে লিভারপুলের আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএসজি থেকে ফরাসি ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে নেওয়ার বিষয়ে তারা বড় অঙ্কের চুক্তির পথে এগিয়েছে। বারকোলাকে ঘিরে সম্ভাব্য চুক্তির অঙ্ক প্রায় ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে একজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার পরও আক্রমণভাগে আরও একজন উইঙ্গার যুক্ত করতে চায় লিভারপুল। সেই দৌড়ে ক্রিস্টাল প্যালেসের সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার অন্যতম প্রধান নাম। তাঁকে অ্যানফিল্ডে নিতে লিভারপুলের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে লিভারপুলের আক্রমণভাগে খেলোয়াড়সংখ্যা ও বিকল্প দুটোই বাড়বে। তখন গাকপোকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ক্লাবটির অবস্থানও বদলাতে পারে। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটি যদি কাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব নিয়ে লিভারপুলকে রাজি করাতে পারে, তাহলে গাকপোর ঠিকানা বদলের সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে।
সব মিলিয়ে গাকপোকে ঘিরে সম্ভাব্য এই দলবদল কেবল দুই ক্লাবের আর্থিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে না। লিভারপুলের বিকল্প খেলোয়াড় সংগ্রহ, সিটির প্রস্তাবের অঙ্ক এবং গাকপোর নিজের সিদ্ধান্ত—সবকিছু মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হতে পারে ডাচ ফরোয়ার্ডের পরবর্তী গন্তব্য।



