খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে পৌষ ১৪৩২ | ৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গত এক বছরে দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় খুনখুনির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় আড়াই শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, এসব ঘটনায় প্রধানত জুলাই মাসের গণ-আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার ঘটেছে।
পুলিশি হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে মোট ৫,৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে গণভবন থেকে লুট হওয়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩২টি অত্যন্ত বিপজ্জনক অস্ত্রও রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে বেশিরভাগ অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনও ১,৩৩৫টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, এবং প্রায় ২,৫৭,১৮৯ রাউন্ড গুলি এখনও অনাবৃত রয়েছে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়, যেমন চকবাজার ও রাউজান, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমান্ত দিয়ে দেশের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে অবৈধ অস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষত মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও অন্যান্য এলাকায় এ ধরনের অস্ত্র রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের বিষয়টি গুরুতর। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর।”
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা থেকে ১,৮৯৮টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। লুট হওয়া অস্ত্রের ধরন ও পরিমাণ নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| অস্ত্রের ধরন | পরিমাণ | নোটস |
|---|---|---|
| চায়না রাইফেল | ৩৪৮ | টি-৫৬ মডেল |
| শটগান | ৭০৩ | বিভিন্ন মডেল |
| সাবমেশিনগান (এসএমজি) | ৩০ | টি-৫৬ চায়না মডেল |
| লাইট মেশিনগান (এলএমজি) | ১৩ | – |
| পিস্তল | ৬৪৯ | টি-৫৪ চায়না ও অন্যান্য মডেল |
সীমান্তের নিরাপত্তা বাহিনীও এ বিষয়ে সতর্ক। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, ৬৪টি অবৈধ অস্ত্র, এক হাজার রাউন্ডের বেশি গুলি এবং শতাধিক হাতবোমা উদ্ধার হয়েছে। এসব সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের মূল পথের মধ্যে রয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া, কুমিল্লা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।
র্যাবও অভিযান জোরদার করেছে। মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৮৪টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলাকালে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং ১৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া এসব অস্ত্র দ্রুত না উদ্ধার করলে জাতীয় নির্বাচনের সময় তা বড় ধরনের সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের উৎস হতে পারে। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে বিশেষ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।