খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সিলেটের পাথর কোয়ারি ও পর্যটনকেন্দ্র থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে পাঁচটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে তল্লাশিচৌকি স্থাপন, পাথর লুটে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, এবং লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া।
বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের সভাপতিত্বে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সর্বসম্মত পাঁচটি সিদ্ধান্ত হয়—জাফলং ইসিএ ও সাদাপাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনীর দায়িত্ব পালন, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে যৌথ বাহিনীর সার্বক্ষণিক দায়িত্ব, পাথর ভাঙার অবৈধ যন্ত্র বন্ধে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ প্রশাসনের অভিযান, পাথর চুরিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা, এবং চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানান, পাথর লুটপাট ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চলছে, তবে সম্প্রতি লুট বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে এবং তা এখন থেকেই কার্যকর হবে।
এর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকার কোয়ারি থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধে নির্দেশনা দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এরপর কিছু নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় রাতের আঁধারে অবৈধ উত্তোলন চলত। গত ৫ আগস্টের পর সিলেটের সব কোয়ারির নিয়ন্ত্রণ নেয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা, যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েক হাজার শ্রমিক প্রকাশ্যে পাথর উত্তোলন শুরু করে। এতে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, সংরক্ষিত বাঙ্কার এলাকা এবং গোয়াইনঘাটের জাফলং অনেকটাই পাথরশূন্য হয়ে পড়ে। সর্বশেষ গত চার মাস ধরে সাদাপাথর এলাকায় উত্তোলন চলছিল, আর গত এক সপ্তাহের লুটপাটে এলাকা প্রায় সম্পূর্ণ পাথরশূন্য হয়ে গেছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন