খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে পৌষ ১৪৩২ | ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক শিগগিরই প্রবাসী নাগরিকদের জন্য শরীয়াভিত্তিক ঋণ প্রদানের কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
ড. আসিফ নজরুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করেছেন, “প্রবাসী ভাইদের জন্য অত্যন্ত শুভসংবাদ। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক অচিরেই শরীয়াভিত্তিক ঋণ কার্যক্রম শুরু করবে। আজ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, এই মাসের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু হওয়া সম্ভব হবে।”
উপদেষ্টা আরও জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ গ্রহণের পেছনে প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ, যাঁকে তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ড. আসিফ বলেন, “এই পদক্ষেপ প্রবাসীদের অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করবে এবং ইসলামী বিধিনিষেধ অনুসারে ঋণ গ্রহণের সুযোগ প্রদান করবে।”
শরীয়াভিত্তিক ঋণ হল সুদমুক্ত ঋণ, যা ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ম অনুসারে পরিচালিত হয়। এই ধরনের ঋণে সাধারণত নিম্নলিখিত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়: মুনাফা ভাগাভাগি (মুদারাবা), বিক্রয় ভিত্তিক চুক্তি (মুরাবাহা) এবং লিজিং (ইজারা)।
প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের পরিকল্পিত শরীয়াভিত্তিক ঋণ কার্যক্রমের সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
| বৈশিষ্ট্য | বিস্তারিত |
|---|---|
| ঋণের ধরণ | মুদারাবা, মুরাবাহা, ইজারা |
| সুদের হার | সুদমুক্ত (মুনাফা ভাগাভাগি বা নির্দিষ্ট মুনাফা) |
| ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা | প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক |
| ঋণ অনুমোদনের সময়কাল | আবেদন থেকে অনুমোদন: ৭–১০ কার্যদিবস |
| সর্বাধিক ঋণ সীমা | প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাংক নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে |
ড. আসিফ নজরুল জানান, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা ও সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সহজলভ্য ও শারীয়াভিত্তিক এই ঋণ সুবিধা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং প্রবাসীদের বিনিয়োগেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ব্যাংকটি ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ, আর্থিক শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনা সহায়তা প্রদান করবে, যাতে প্রাপ্ত ঋণ যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। প্রাথমিকভাবে এই ঋণ কার্যক্রম প্রধানত মধ্যপ্রবেশী প্রবাসী কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য শ্রেণির প্রবাসীরাও এর সুবিধা নিতে পারবেন।