খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে ২০২৫
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুনভাবে শপথবাক্য নির্ধারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাত্যহিক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের আগের শপথবাক্য পাঠ করতে হবে, তবে তাতে এবার সংযোজিত হয়েছে ‘অন্যায় ও দুর্নীতি করবো না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবো না’—এই দুটি দৃঢ় প্রত্যয়। ফলে বাদ পড়েছে আওয়ামী লীগের শাসনামলে শপথবাক্যে যুক্ত হওয়া ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ ও ‘শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে না দেওয়ার’ প্রত্যয়ের অংশগুলো।
বুধবার (২১ মে) জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা এবং সেবার মানসিকতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই শপথবাক্য প্রতিদিনের সমাবেশে পাঠ করার জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নতুন শপথবাক্যটি হলো, ‘আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিবো। দেশের প্রতি অনুগত থাকিবো। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখিবার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিবো। অন্যায় ও দুর্নীতি করিবো না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিবো না। হে মহান আল্লাহ/মহান সৃষ্টিকর্তা, আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করিতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ, বৈষম্যহীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়িয়া তুলিতে পারি। আমিন।’
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), সব জেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জারি হওয়া এক আদেশে শিক্ষার্থীদের শপথবাক্যে ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ এবং ‘শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে না দেওয়ার’ মত বিষয় যুক্ত করা হয়েছিল।
সেই শপথে বলা হয়েছিল-‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।… আমি দৃপ্তকণ্ঠে শপথ করছি যে, শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না। দেশকে ভালোবাসবো, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ে তুলবো।’
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের পর শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায়, ২০ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিটিআইগুলোতে পুরোনো শপথবাক্য ফেরত আনার নির্দেশ দেয়। সেই শপথে মূলত দেশপ্রেম, সেবা ও নৈতিকতার দিকগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের নতুন সংস্করণে সেই পুরোনো শপথবাক্যটি আবারও ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং তার সঙ্গে দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অঙ্গীকার যুক্ত হয়েছে—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেওয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন-
খবরওয়ালা/আরডি