শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ১৪ পিস ইয়াবাসহ স্থানীয় এক কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদককে হাতেনাতে আটক করেছে এলাকাবাসী। মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয় জনতা তাদের গণধোলাই দিয়ে পরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। শনিবার ভোররাত তিনটার দিকে উপজেলার বিশগিরিপাড়া এলাকার হ্যান্ডেল মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।
আটককৃত দুই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন নালিতাবাড়ীর বরুয়াজানি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন (২২) এবং একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছাদেক আলী (২৩)। এদের মধ্যে দেলোয়ার নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে এবং ছাদেক আলী কাকরকান্দি গ্রামের আমিনুল ইসলামের সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার ও ছাদেক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করছিলেন। শনিবার রাতে তারা মাদক পাচার করছেন এমন খবর বা সন্দেহ জেগে ওঠে বিশগিরিপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মনে। ভোররাত আনুমানিক তিনটার দিকে তারা হ্যান্ডেল মোড় অতিক্রম করার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের পথরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে এলাকাবাসী তাদের তল্লাশি করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
মাদক উদ্ধারের পর উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা তাদের ধরে কাছের একটি ঘরে আটকে রাখে এবং লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে রাত বাড়ার সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হ্যান্ডেল মোড়ে গিয়ে উপস্থিত হয়। পুলিশ সদস্যরা দুই ছাত্রদল নেতাকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করেন এবং উদ্ধার করা ইয়াবাসহ তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে থানা হেফাজতে নেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, মাদকের খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে আটক দুইজনকে হেফাজতে নেয়। তাদের তল্লাশি করে উদ্ধার করা ইয়াবা জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক দেলোয়ার ও ছাদেককে পুলিশি পাহারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
মাদকের মতো মারাত্মক অপরাধে ছাত্রনেতাদের নাম জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে মুক্ত রাখতে তারা একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। যেকোনো মূল্যে এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষ এভাবে সজাগ থাকবেন বলেও জানান তারা।
মন্তব্য