বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার, ১৮ মার্চ, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাইক্রোবাসটি ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে ছুটছিল ঈদের ছুটির যাত্রার জন্য।
নিহত ও আহতদের বিস্তারিত
| শ্রেণি |
নাম |
বয়স |
| নিহত |
শিউলী বেগম |
৪৮ |
| নিহত |
তায়েবা খাতুন |
৩৫ |
| নিহত |
ড্রাইভার রিন্টু |
৪৭ |
| আহত |
ফাতেমা |
১০ |
| আহত |
শহিদুল |
৪০ |
| আহত |
তৌছিব |
৩০ |
| আহত |
তাসমিয়া |
২০ |
| আহত |
হেলেনা |
৬০ |
| আহত |
তারিকুল |
৩৬ |
| আহত |
ফাতেমা (শিশু) |
২ |
| আহত |
আরহাম |
৭ |
| আহত |
হামিম |
৩০ |
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাইক্রোবাস ছোনকা এলাকায় পৌঁছানোর মুহূর্তে হঠাৎ একটি বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি আগুনে আবৃত হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় যাত্রীদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। বিশেষ করে ড্রাইভার গাড়ির ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শেরপুর ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। দুর্ভাগ্যবশত একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজন মারা যান। এতে মোট তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়। দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারকে হস্তান্তর করা হবে।
নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রীবাহী গাড়িতে এলপিজি বা অন্যান্য গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার যথাযথ নিয়ম না মানলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সিলিন্ডার সংযোগের পরীক্ষা ও জরুরি প্রটোকল মেনে চলা অপরিহার্য।
উল্লেখযোগ্য, শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় নিয়মিত যাত্রীর চাপ থাকে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাড়ির মালিক, চালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি পুনরায় একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উঠে আসে, যেখানে সাধারণ যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা ও যাত্রীবাহী যানবাহনের নিয়মিত পরীক্ষার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা তৎক্ষণাৎ জনসাধারণের প্রশংসা অর্জন করেছে।