খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জমকালো নির্বাচনী প্রচারণার পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন জার্মান নাগরিকরা। এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা ও দেশের দুর্বল অর্থনীতি, যা অভিবাসন ও নিরাপত্তাকে কেন্দ্রীয় বিষয় করেছে। এই নির্বাচন শুধু জার্মানির ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ফলে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই নির্বাচনের দিকে গভীর দৃষ্টি রাখছে। বিবিসির খবর।
নতুন চ্যান্সেলর হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কনজারভেটিভ নেতা ফ্রিডরিক মের্জ। ৬৯ বছর বয়সী এই নেতা চার বছরের মধ্যে দেশটির প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ) যদি জয়ী হয়, তবে তাদের সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সঙ্গে জোট বাঁধতে হবে। সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন এসপিডি থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জটিলতা জোট গঠনকে কঠিন করে তুলতে পারে।
কট্টর-ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) এবার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পথে, যা ওলাফ শলৎসের মধ্য-বামপন্থি দলকেও পিছনে ফেলেছে। তবে এসপিডি এবং অন্যান্য প্রধান দলগুলো এএফডি-এর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
প্রায় ৫৯.২ মিলিয়ন ভোটার এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। জরিপে দেখা গেছে, ২০% ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। অনেকেই ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন, যা জার্মানির নির্বাচনী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ( বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) ভোটগ্রহণ শেষ হবে এবং রাতেই নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল স্পষ্ট হতে পারে।
এএফডি তাদের প্রচারণায় নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্রে রেখেছে। সম্প্রতি জার্মানিতে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি অভিবাসীদের দ্বারা সংঘটিত বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা ইস্যুটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। শুক্রবার রাতে বার্লিনের হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধে এক সিরীয় নাগরিকের ছুরিকাঘাতের ঘটনাও এ বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এএফডি-এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী অ্যালিস ওয়েডেলের প্রচার ভিডিওগুলো লক্ষাধিক মানুষ দেখেছেন। তিনি জনগণকে “ফায়ারওয়াল” ভেঙে এএফডি-কে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। এএফডি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের জন্য গণভোট, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার পদক্ষেপ বাতিল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই নির্বাচনে জোট গঠন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অনেক ছোট দল বুন্ডেসটাগে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫% ভোটসীমা পেরোতে নাও পারে, যা বড় দলগুলোর জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। অর্থনৈতিক উদারপন্থী ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টি (এফডিপি) ও বামপন্থী পপুলিস্ট দল বিএসডব্লিও-এর টিকে থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, গ্রিন পার্টির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যৎ জোট গঠনে বামপন্থী দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এই নির্বাচন জার্মানির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ইউরোপে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি দিলেও সামরিক বাজেট, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের মতো বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
যদিও নির্বাচনের ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, তবে এটি স্পষ্ট যে এএফডি-এর উত্থান, রাজনৈতিক বিভাজন ও জোট গঠনের চ্যালেঞ্জ জার্মানির রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে। ভোটাররা তাদের মতামত জানিয়ে দিয়েছেন, এখন গোটা দেশ অপেক্ষা করছে এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের ফলাফলের জন্য।
খবরওয়ালা/এমবি