খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্রমাগত হুমকির পর তাদের কূটনৈতিক ও সামরিক নীতি তীব্রভাবে পরিবর্তন করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি সচল করার জন্য সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
উত্তরোত্তর উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউএই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সামরিক অভিযানের বৈধতা চেয়ে প্রস্তাব উত্থাপনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের জন্য লবিং চালাচ্ছে।
একজন আমিরাতি কূটনীতিক জানায়, “ইরান বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে জিম্মি করতে চায়। তাই হরমুজ খুলতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিকল্প নেই।”
আমিরাত প্রথমে মাইন অপসারণ, নৌপথ নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ ছাড়াও, বিতর্কিত আবু মুসা দ্বীপসহ হরমুজের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি তুলেছে।
উল্লেখ্য, আবু মুসা দ্বীপটি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ইরানের দখলে থাকলেও আমিরাত এটি নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তবে সরাসরি সৈন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
উত্তেজনা বৃদ্ধির পর গত মঙ্গলবার ইরান প্রায় ৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুড়েছে আমিরাতের দিকে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড দখলে সহায়তা করে তবে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
এ পর্যন্ত ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে প্রায় ২,৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন, যা ইসরায়েলের তুলনায় বেশি। এ ঘটনায় দুবাইয়ের হোটেল, বিমানবন্দর ও পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি ঘটেছে।
চ্যাথাম হাউসের ফেলো বিলাল সাবের মনে করেন, জেবেল আলী বন্দর এবং ভৌগোলিক অবস্থান আমিরাতকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেজ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষক এলিজাবেথ ডেন্ট সতর্ক করেছেন, ট্রাম্প যদি ইরানকে পুরোপুরি পঙ্গু না করে চলে যান, তবে আমিরাত একা মোকাবিলা করতে বাধ্য হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সক্রিয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার বৈশ্বিক চাপ, অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি, উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের অবস্থা তৈরি করেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দেশ | সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) |
| মূল লক্ষ্য | হরমুজ প্রণালি সচল রাখা |
| সামরিক প্রস্তুতি | যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিকল্পনা |
| কূটনৈতিক পদক্ষেপ | জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বৈধতা চাওয়া, জোট গঠন লবিং |
| দ্বীপ/নিয়ন্ত্রণ | আবু মুসা, হরমুজ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চাওয়া |
| সাম্প্রতিক ইরানি হামলা | ৫০ ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র + ড্রোন, প্রায় ২,৫০০ লক্ষ্যবস্তু |
| ভৌগোলিক কৌশল | জেবেল আলী বন্দর ও আমিরাতের অবস্থান মার্কিন অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ |
| সামরিক সক্ষমতা | এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, নজরদারি ড্রোন, আধুনিক বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত |
উপসংহার
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই পদক্ষেপ বিশ্ববাণিজ্য, সমুদ্রপথ নিরাপত্তা এবং সামরিক সংঘাতের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি সচল রাখা, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ নিরাপদ করা এবং ইরানের প্রতিশোধ মোকাবিলা করা দেশটির কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বিপদজনক হতে পারে।