খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ ও বর্তমান নিম্নকক্ষে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চান ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এই দাবির কথা জানান।
‘গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সভা উদ্বোধন করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আলোচনা সভার শুরুতেই বক্তব্য রাখেন জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত, আহত ও নির্যাতিত ব্যক্তিদের স্বজনরা।
সাভারে নিহত ইয়ামিনের বাবা মহিউদ্দিন বলেন, ‘শান্তি ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির স্বার্থে সংসদের উচ্চকক্ষের নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে হওয়া উচিত। শহীদ পরিবার থেকে উচ্চ ও নিম্নকক্ষে অন্তত ১০ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হোক।’
মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শহীদ পরিবারের অংশীদারত্ব ছাড়া গণতন্ত্র পূর্ণতা পাবে না।’
রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের ভাই রমজান আলী বলেন, ‘আবু সাঈদ গুলির সামনে বুক পেতে না দাঁড়ালে, দেশের পরিস্থিতি বদল এত দ্রুত হতো না। সে সকলকে সাহস জুগিয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ‘গণ-অভ্যুত্থান’ চলাকালে সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন, যাদের শহীদ আখ্যা দিয়ে বিএনপি ও তার সমর্থকরা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিচার, স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি জানিয়ে আসছেন।
শহীদ পরিবারগুলো জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংবিধান ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিও তুলেছেন। তারা সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দিয়েছেন, যা হলে দলীয় ভোট অনুযায়ী বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধি মনোনয়ন সহজ হয়।
এ বিষয়ে এখনো সরকারি মহল থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
খবরওয়ালা/আরডি