খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে মাঘ ১৪৩২ | ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের শটগানে কোনো ধরনের প্রাণঘাতী বা ধাতব বুলেট ব্যবহার করবে না। মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল হক এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ শুধুমাত্র রাবার বুলেট ব্যবহার করবে।
ডিআইজি রেজাউল হক তার বক্তব্যে শটগানের গোলাবারুদ ব্যবহারের কারিগরি ও মানবিক দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন। সাধারণত শটগানে দুই ধরনের অ্যামুনিশন বা বুলেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে: রাবার বুলেট এবং লিডবল (মেটাল) বুলেট। মেটাল বা লিডবল বুলেট মানুষের শরীরে বিদ্ধ হলে তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে। অন্যদিকে, রাবার বুলেটের মূল উদ্দেশ্য হলো আক্রমণকারীকে ছত্রভঙ্গ করা বা সাময়িকভাবে নিবৃত্ত করা, তাকে গুরুতর আহত করা নয়।
নিচে শটগানের গোলাবারুদের ধরন ও ব্যবহারের পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক ছক তুলে ধরা হলো:
| বুলেটের ধরন | বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব | এবারের নির্বাচনে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত |
| লিডবল (মেটাল) বুলেট | অত্যন্ত শক্তিশালী, শরীরে বিদ্ধ হলে গভীর ক্ষত ও রক্তক্ষরণ তৈরি করে। | সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও কোনো ইউনিটে ইস্যু করা হয়নি। |
| রাবার বুলেট | অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ, মূলত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সতর্ক করতে ব্যবহৃত হয়। | শুধুমাত্র বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ইস্যু করা হয়েছে। |
ডিআইজি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কাউকে ইনজুরি করা নয়, বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা এবার কোনো মেটাল বুলেট ইস্যু করিনি। তবে যদি কোনো ভোটকেন্দ্র আক্রান্ত হয়, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা চলে কিংবা সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তবে পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এমন চরম পরিস্থিতিতে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB) বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গেও ডিআইজি রেজাউল হক কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, খুলনা রেঞ্জের ৬৪টি থানার কোনো সহকর্মী ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য বাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ণ করবে না বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি সগৌরবে জানান যে, প্রফেশনালিজমের বাইরে গিয়ে পুলিশের কোনো সদস্য যদি কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই ব্রিফিংয়ে এটি পরিষ্কার করা হয় যে, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবে। পুলিশের এই ‘মারণাস্ত্রহীন’ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।