খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৯:১ এএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগে শাহিন আলী (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
র্যাব জানায়, সোমবার (৬ জুলাই) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের জালালিয়া রোড এলাকার বাসিন্দা এবং শুক্কুর আলীর ছেলে।
র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, শাহিন আলী নিজ বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। সেই সূত্রেই ভুক্তভোগী গৃহবধূর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নিয়মিত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য ওই নারী তার কাছে যেতেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ভুক্তভোগী শাহিনের কাছ থেকে এক জোড়া জুতা কেনেন। পরে জুতাটি আকারে ছোট হওয়ায় সেটি পরিবর্তনের জন্য একই দিন তিনি শাহিনের বাসায় যান। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় বাসায় অন্য কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে শাহিন জোরপূর্বক ওই গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন এবং গোপনে মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
র্যাবের ভাষ্য, ওই ভিডিওকে হাতিয়ার বানিয়ে পরবর্তী সময়ে শাহিন দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি গৃহবধূকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেন এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা চালান। এতে ভুক্তভোগী চরম মানসিক চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হন।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ভিডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ করলে অভিযুক্ত তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে ভিডিওটি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতির চাপে পড়ে গৃহবধূ প্রথমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু এরপরও বাকি অর্থের জন্য তার ওপর চাপ অব্যাহত থাকে।
র্যাব জানায়, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে আপত্তিকর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর প্রভাব পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় রুজু করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ধারণ করে কাউকে ভয় দেখানো, অর্থ আদায় কিংবা ব্ল্যাকমেইল করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ভয় না পেয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি বা অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য