খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
এরনাকুলাম জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন রায় দিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার দাবি জরুরি নয় বলে প্রত্যাখ্যান করা ভোক্তার প্রতি অন্যায় বাণিজ্যিক আচরণ এবং সেবায় ঘাটতি হিসেবে গণ্য হবে। এই রায় এসেছে পল্লারিমঙ্গলাম, এরনাকুলামের কে এম মুইউদ্দিনের দাখিল করা অভিযোগ থেকে, যেখানে অভিযুক্ত ছিল ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং মেডিসেপ।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এক জিপের সঙ্গে সংঘর্ষে অভিযোগকারী বাঁ পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে নিকটবর্তী কোলেঞ্চেরি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নেন। হাসপাতালটি তালিকাভুক্ত না থাকায় তিনি মোট ৯৪,২৭৬ রুপির ব্যয় ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্সের কাছে ফেরত চান। প্রতিষ্ঠানটি দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তালিকাভুক্ত নয় এমন হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় কেবল জরুরি পরিস্থিতিতে কাভার করা যায়। তাদের যুক্তি ছিল এটি জরুরি পরিস্থিতি নয় এবং অভিযোগকারী মেডিসেপের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও ব্যবহার করেননি।
কমিশন জানায়, ২০২২ সালের ২৭ জুন রাজ্যের অর্থ দপ্তর ও ইন্স্যুরারের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং সড়ক দুর্ঘটনাকে জরুরি অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা আছে এবং এসব ক্ষেত্রে তালিকাবহির্ভূত হাসপাতালের চিকিৎসাও ফেরতযোগ্য।
এছাড়া কমিশন সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ও তুলে ধরে যেখানে বলা হয়েছে, বিমা শর্তাবলিতে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে তা ভোক্তার অনুকূলে ব্যাখ্যা করতে হবে। মেডিসেপের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষ না করায় অভিযোগটি গ্রহণযোগ্য নয়—ওরিয়েন্টালের এমন যুক্তিও কমিশন খারিজ করে জানায়, ভোক্তা আইনের অধীনে প্রতিকার অন্য আইনি প্রতিকারের অতিরিক্ত এবং এটি ভোক্তা আদালতের এখতিয়ার সীমাবদ্ধ করে না।
চিকিৎসা খরচের দাবি অযৌক্তিকভাবে প্রত্যাখ্যান ও সেবায় ঘাটতি ও অন্যায় বাণিজ্যিক আচরণের কারণে কমিশন ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স ও মেডিসেপকে ৯৪,২৭৬ রুপি ৯ শতাংশ সুদসহ ৪৫ দিনের মধ্যে ফেরত এবং মানসিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০,০০০ রুপি ও আদালত ব্যয় হিসেবে ৫,০০০ রুপি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।
খবরওয়ালা /এসএস